শরীর সুস্থ রাখা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টসমৃদ্ধ খাবার ও পানীয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। সাধারণত অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের কথা বললেই আমাদের মাথায় আসে গ্রিন টি-র নাম। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, কেবল গ্রিন টি নয়, রান্নাঘরে থাকা খুব পরিচিত কিছু উপকরণ দিয়েই তৈরি করে নেওয়া সম্ভব চমৎকার কিছু স্বাস্থ্যকর পানীয়।
সুস্থতার জন্য দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে যে ৫টি ঘরে তৈরি পানীয় যুক্ত করা যেতে পারে:
১. সজনেপাতার চা ভর্তা বা তরকারির পাশাপাশি সজনেপাতা দিয়ে চমৎকার চা তৈরি করা সম্ভব। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, আয়রন ও ক্যালসিয়াম। পরিষ্কার সজনেপাতা পানিতে ফুটিয়ে খুব সহজেই এই চা বানানো যায়। তবে এটিকে কোনো নির্দিষ্ট রোগ নিরাময়ের ওষুধ হিসেবে বিবেচনা না করে নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের অংশ করাই শ্রেয়।
২. জবাফুলের চা লাল জবাফুল দিয়ে তৈরি চা অত্যন্ত সুস্বাদু ও দৃষ্টিনন্দন। জবাফুলে রয়েছে ‘অ্যান্থোসায়ানিন’ নামের এক ধরণের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। এই চা তৈরির সময় বাড়তি চিনি ব্যবহার না করাই ভালো। তবে যারা নিয়মিত রক্তচাপ বা অন্য কোনো জটিলতার ওষুধ খাচ্ছেন, তারা এটি নিয়মিত পানের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৩. বিটের পানীয় বিটের গাঢ় লাল রঙের পেছনে রয়েছে ‘বিটালেইন’ নামের একটি বিশেষ উপাদান, যা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া বিটে থাকা নাইট্রেট শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে সাহায্য করে, যা শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায়। বিটের রস তৈরির সময় ছেঁকে না নিয়ে পাল্প বা আশসহ পান করলে তা থেকে প্রয়োজনীয় ফাইবারও পাওয়া যায়।
৪. আদা-লেবুর পানি ভিটামিন সি-তে ভরপুর লেবু এবং ‘জিঞ্জেরল’ সমৃদ্ধ আদা একসাথে মিশিয়ে খুব সহজে তৈরি করা যায় এই পানীয়। হালকা গরম পানিতে আদার রস ও লেবু মিশিয়ে নিলেই এটি তৈরি হয়ে যায়। এতে বাড়তি চিনি না মিশিয়ে পান করলে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি গ্রহণের ঝুঁকি থাকে না।
৫. আমলকির শরবত প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং ভেষজ গুণাবলীতে সমৃদ্ধ আমলকি শরীরের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আমলকির শরবত বানানোর সময় চিনি এড়িয়ে চলা উচিত। আর বোতলজাত আমলকির জুস কেনার ক্ষেত্রে উপাদান তালিকার চিনি যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল কোনো একটি নির্দিষ্ট পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরণের শাকসবজি, ফলমূল, ডাল ও বাদাম রাখা উচিত। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং মিষ্টি পানীয় এড়িয়ে ফল ও সবজি পুরোপুরি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই সুস্বাস্থ্যের আসল চাবিকাঠি।