
রাশিয়ার বিখ্যাত নগরী সেইন্ট পিটার্সবার্গে বাংলাদেশ ও রাশিয়ান ফেডারেশনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বন্ধুত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করতে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্বমঞ্চে চলমান দ্বাদশ ‘সেইন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইউনাইটেড কালচারস ফোরাম’-এ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
স্বাক্ষরিত এ সমঝোতার মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধি, প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, চিত্রশিল্প ও জাদুঘর ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি সৃজনশীল সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও গভীর হবে। গত ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দুই যৌথ সচিবসহ তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী রাশিয়া পৌঁছান।
ফোরামের সাইডলাইনে মিয়ানমারের ধর্ম ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইউ টিন ও লুইন বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। বৈঠককালে দুই দেশের সংস্কৃতি মন্ত্রী প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, বৌদ্ধ ঐতিহ্য এবং পারস্পরিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের নানা দিক তুলে ধরেন। এ সময় সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বাংলাদেশের হাজার বছরের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, বাংলা নববর্ষের সার্বজনীনতা এবং সমতল ও পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য বিশ্বনেতাদের সামনে বর্ণনা করেন।
২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই আন্তর্জাতিক ফোরামের দ্বিতীয় দিনে (২৫ সেপ্টেম্বর) ‘ফোক আর্টিসান ক্রাফটওয়ার্ক রিবুটেড’ শীর্ষক বিশেষ সেশনে মূল ভাষণ দেবেন বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের লোকশিল্প, ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের পুনর্জাগরণ এবং এর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরবেন। এছাড়া ফোরামের বিশেষ প্লেনারি সেশনে রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের সাংস্কৃতিক কূটনৈতিক সাফল্য আনবে।
| বিষয় | বিবরণ | কূটনৈতিক প্রভাব |
|---|---|---|
| সম্মেলনের নাম | ১২তম সেইন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইউনাইটেড কালচারস ফোরাম। | বহুপাক্ষিক ব্র্যান্ডিং। |
| রাশিয়া-বাংলাদেশ চুক্তি | সাংস্কৃতিক বিনিময়, জাদুঘর ও প্রত্নতাত্ত্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধি। | দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার। |
| মিয়ানমারের সাথে আলোচনা | বৌদ্ধ ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক প্রত্নতত্ত্ব ও লোকজ মেলবন্ধন। | আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক কূটনীতি। |
| প্রতিনিধি দল | সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং ২ জন যুগ্মসচিব। | উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব। |