
মিষ্টি স্বাদ ও পুষ্টিগুণের জন্য পাকা পেঁপে অনেকেরই বেশ প্রিয়। ফাইবার, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, জিঙ্ক ও পটাশিয়ামসমৃদ্ধ এই ফল হজমশক্তি বাড়ানো এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে দারুণ ভূমিকা রাখে। তবে বাজারে চাহিদা থাকায় অনেক সময় গাছে পাকার আগেই রাসায়নিক ব্যবহার করে পেঁপে পাকানো হয়।
স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে গাছপাকা পেঁপে ও কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো পেঁপের তফাত বুঝে কেনা জরুরি। কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলেই কৃত্রিমভাবে পাকানো পেঁপে সহজে চেনা যায়:
১. গায়ের রঙ পরীক্ষা করা গাছপাকা পেঁপের রঙ সাধারণত পুরোপুরি একরকম হয় না। এর খোসায় সবুজ ও হলুদের মিশ্রণ থাকে এবং সময় নিয়ে ধীরে ধীরে পাকার কারণে রঙে কিছুটা বৈচিত্র্য থাকে। অন্যদিকে কার্বাইড বা অন্য রাসায়নিক দিয়ে পাকানো পেঁপের পুরো অংশ একরকম কৃত্রিম উজ্জ্বল হলুদ দেখায়। এর খোসাও অস্বাভাবিক মসৃণ ও নিখুঁত মনে হতে পারে।
২. প্রাকৃতিক গন্ধ নেওয়া ক্রয় করার আগে পেঁপের বোঁটার দিকের গন্ধ শুঁকে নেওয়া বেশ কার্যকর। গাছপাকা পেঁপেতে একটি স্বাভাবিক মিষ্টি ও সুবাস থাকে। তবে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো পেঁপে থেকে কোনো স্বাভাবিক মিষ্টি গন্ধ পাওয়া যায় না; অনেক সময় হালকা ঝাঁঝালো বা ওষুধের মতো রাসায়নিক গন্ধ আসে।
৩. স্পর্শ করে অনুধাবন করা পেঁপের গায়ে হালকা চাপ দিয়ে তা পরখ করে নেওয়া যায়। প্রাকৃতিক নিয়মে পাকা পেঁপে সমানভাবে নরম হয়। কিন্তু পেঁপের কোথাও অতিরিক্ত শক্ত আর কোথাও নরম থাকলে বুঝতে হবে সেটি সমানভাবে পাকেনি। তবে বৃন্ত বা বোঁটার অংশ হালকা নরম মনে হলে তা স্বাভাবিক পাকার লক্ষণ।
৪. কাটার পর শাঁস ও বীজ দেখা পেঁপে কাটার পরও এর ফারাক বোঝা যায়। স্বাভাবিকভাবে পাকা পেঁপের ভেতরের শাঁস গাঢ় কমলা রঙের হয় এবং বীজগুলো পরিপক্ক থাকে। কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হলে পেঁপের ওপরের অংশ হলুদ দেখালেও কাটার পর ভেতরের শাঁস কিছুটা ফ্যাকাশে বা কম মিষ্টি হতে পারে।