দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনে সরকার ‘রিকভারি, রেস্টারেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’ বা ‘থ্রি-আর’ (Three-Rs) কৌশল অনুসরণ করছে বলে জাতিসংঘের মঞ্চে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাংলায় দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে এ রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি।
বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের অপশাসন, গুম, খুন, অপহরণ, সীমাহীন দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিশাপ থেকে ২০২৪ সালে মুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়ে দেশটি পুনরায় সুশাসন ও গণতন্ত্রের মূলধারায় ফিরে এসেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সামনে অপার সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশে বিদ্যমান 'ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড' তথা যুবশক্তির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, আমাদের বিপুল কর্মক্ষম তরুণদের বৈশ্বিক মানদণ্ডে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে সরকার বৃহৎ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দেশকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু বা ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ ও উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের মেধা পাচার রোধ ও নতুন প্রজন্মের কাজের পরিধি বিস্তৃত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশ্ববাসীকে জানান, দেশের তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবকদের স্টার্টআপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ করে দিতে বাংলাদেশ সরকার চলতি অর্থবছরেই ৫০ মিলিয়ন ডলার (পাঁচ কোটি ডলার) বরাদ্দ রেখেছে।
| কৌশলগত ক্ষেত্র | মূল পদক্ষেপ | প্রত্যাশিত ফলাফল |
|---|---|---|
| রাষ্ট্র সংস্কার কৌশল | 'থ্রি-আর' (রিকভারি, রেস্টারেশন ও রিকনস্ট্রাকশন)। | গণতান্ত্রিক কাঠামোর পুনরাবৃত্তি ও স্থায়িত্ব। |
| অর্থনৈতিক খাত | বাংলাদেশকে 'ম্যানুফ্যাকচারিং হাব' তৈরি করা। | ব্যাপক কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক বিনিয়োগ। |
| তরুণ ও প্রযুক্তি খাত | ৫০ মিলিয়ন ডলারের বিশেষ স্টার্টআপ ফান্ড প্রদান। | উদ্ভাবন বৃদ্ধি ও তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টি। |