নিউজ প্রোভাইডার:
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক যখন বাণিজ্য থেকে শুরু করে তাইওয়ান ইস্যুতে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই ওয়াশিংটন সফরে এক ব্যতিক্রমী ‘সফট পাওয়ার’ বা কূটনৈতিক প্রভার বিস্তার করেছেন চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিওয়ান। নিজস্ব ব্যক্তিত্ব, মার্জিত পোশাক এবং সাবলীল ইংরেজি কথোপকথনে আমেরিকানদের মন জয় করে বিশ্বমঞ্চে চীনের এক নমনীয় ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটনের 'স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্ট'-এ একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন পেং লিওয়ান। সেখানে শিশু-কিশোরদের এক গায়কদল তাকে বিখ্যাত চীনা লোকসংগীত "জাসমিন ফ্লাওয়ার" গেয়ে শোনালে তিনি তাদের সঙ্গে সুর মেলান।
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে পেং লিওয়ান অত্যন্ত সাবলীলভাবে কোনো দোভাষী বা অনুবাদক ছাড়াই মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে ইংরেজিতে কুশল বিনিময় ও খোলামেলা আলোচনা করেন। সাংস্কৃতিক এই অনুষ্ঠানে তরুণ গায়করা পরিবেশনা শেষে তাকে "ধন্যবাদ, মা পেং" বলে সম্বোধন করলে তিনি আবেগাপ্লুত হন এবং তাদের ধন্যবাদ জানান।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শি ফেং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পেং লিওয়ানের এই সফরের ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, "তিনি আমেরিকান কিশোর-কিশোরীদের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা অব্যাহত রাখার এবং দু'দেশের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বের দূত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞ জো মাজুর এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, "কঠোর ও কাঠখোট্টা কূটনৈতিক আলোচনার বাইরে পেং লিওয়ানের এই অংশগ্রহণ চীন-মার্কিন সম্পর্কের মাঝে এক ধরণের স্বস্তি ও ইতিবাচক আবহ তৈরি করতে দারুণ ভূমিকা রাখছে।"
চীনে কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতাদের স্ত্রীদের জনসমক্ষে বা রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় রাখার একটি দীর্ঘ দিনের প্রথা ছিল। মূলত ১৯৬৬-১৯৭৬ সালের সাংস্কৃতিক বিপ্লবে মাও সে তুংয়ের স্ত্রী জিয়াং কিংয়ের নেতিবাচক ভূমিকাকে কেন্দ্র করেই এই দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।
তবে পেং লিওয়ান সেই চেনা বৃত্ত ভেঙে বের হয়েছেন। নব্বইয়ের দশকে মিলিটারির একজন বিখ্যাত সোপ্রানো সংগীতশিল্পী হিসেবে চীনে তিনি অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ২০০৭ সালে এক সাক্ষাৎকারে শি জিনপিং সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, "বাসায় তিনি যখন ফেরেন, তখন আমার কখনো মনে হয় না যে কোনো বড় নেতা এসেছেন। আমার চোখে তিনি শুধুই আমার স্বামী—যিনি অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমী ও মাটির মানুষ।"
সংগীতজীবনের পাশাপাশি তিনি এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনসহ বহু সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং সাধারণ আমেরিকানদের কাছে চীনের নতুন ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক অস্ত্র হিসেবে কাজ করছেন এই ফার্স্ট লেডী।
তথ্যসূত্র : রয়টার্স