নিউজ প্রোভাইডার :
ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত এবং ভারতে একাধিক হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত ফেরারি আসামি বালরাজ ধিল্লা বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তায় অনুষ্ঠিত এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তাঁর কনে কম্বোডিয়ার নাগরিক মেটা চানমিয়া।
হরিয়ানার ঝাজ্জারের বদলি গ্রামের বাসিন্দা ধিল্লার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের জের ধরে এই রাজকীয় বিয়ের আয়োজন করা হয়। কম্বোডিয়ায় অবস্থানকালে ধিল্লা ও চানমিয়া দম্পতির পরিচয় হয় এবং তাঁদের সংসারে তিনটি সন্তান রয়েছে।
ঝাজ্জারের পুলিশ সুপার সিমারদীপ সিং জানিয়েছেন, প্যারোলে মুক্তি পাওয়া এই শীর্ষ আসামির বিয়েকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে আমন্ত্রিত অতিথি ও স্বজনদের তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার কারণে কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাধারণ আলোকচিত্রীকে বিবাহস্থলে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
আদালতের নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে বাহাদুরগড়ে সংগঠিত একটি হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলায় ২০১৩ সালের এপ্রিলে ধিল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া আরও দুটি পৃথক মামলায় তাঁর সাজা হয়েছিল।
২০১৮ সালের জুলাই মাসে হিসার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছয় সপ্তাহের সাময়িক প্যারোল পেয়ে জামিনে বের হন ধিল্লা। তবে প্যারোলের মেয়াদ শেষে কারাগারে না ফিরে ভুয়া পাসপোর্টের মাধ্যমে দেশ ছেড়ে কম্বোডিয়ায় পালিয়ে যান তিনি। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা 'ইন্টারপোল' রেড নোটিশ জারি করে।
দীর্ঘদিন কম্বোডিয়ার সিয়েন রিপ এলাকায় বসবাস করার পর ২০২৫ সালের জুলাই মাসে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় কম্বোডিয়ায় গ্রেপ্তার হন তিনি। একই বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে এনে পুনরায় কারাগারে পাঠায় প্রশাসন। পূর্বে প্যারোল থেকে পালিয়ে যাওয়ার রেকর্ড থাকায় এবার তাঁকে অত্যন্ত কঠোর শর্তাধীনে বিয়ের জন্য স্বল্পসময়ের প্যারোল দেওয়া হয়।