নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় একই পরিবারের নিখোঁজ চারজনের সন্ধান এখনো মেলেনি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন।
গতকাল বৃহস্পতিবার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।
এ ঘটনায় একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং চারজন নিখোঁজ হন। নিখোঁজরা হলেন হেলাল উদ্দিন (৫৫), সজীব (২৪), সামিয়া (১৭) ও সামিন (৫)। তারা সবাই কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার বাসিন্দা। সেখান থেকে ট্রলারে করে বৈদ্যেরবাজারের দিকে আসছিলেন তারা।
ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, গত রাতে (বৃহস্পতিবার) উদ্ধার অভিযান বন্ধ করার পর আজ (শুক্রবার) সকাল ৭টা থেকে আমাদের দল আবার অভিযান শুরু করেছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে তিনজন ডুবুরি নদীতে নেমেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৪ জন যাত্রী গরু-ছাগলসহ ট্রলারে করে বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হারিয়া এলাকায় সাজিয়া আক্তার (১৯) ও শিশিরের বিয়েতে যোগ দিতে রওনা দেন। বিকেল আনুমানিক ২টার দিকে ট্রলারটি সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।
এ সময় কাছাকাছি থাকা আমান কোম্পানির একটি ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। এ সময় রায়েসা বেগম (৪০) নামে এক নারীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে চারজন নিখোঁজ থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালান। অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় রাতে অভিযান স্থগিত করা হয়। শুক্রবার সকাল থেকে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, গত রাত থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ও কোস্টগার্ডের দুটি দল ঘটনাস্থলে রয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।