বাংলাদেশ সচিবালয় বিটের দুই অসুস্থ সাংবাদিকের চিকিৎসা এবং প্রয়াত দুই সাংবাদিকের পরিবারকে মোট ২০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন (এবিজি ফাউন্ডেশন)। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিআইএএম অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) বার্ষিক সাধারণ সভায় এই সহায়তা দেওয়া হয়।
চার সাংবাদিক ও তাঁদের পরিবারের প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করে এবিজি ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে প্রয়াত সাংবাদিক হারুন অর রশিদ তালুকদার ও হুমায়ুন কবির খোকনের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে এবং অসুস্থ সাংবাদিক রাকিব উদ্দিন ও আমানুর রহমানের চিকিৎসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে এবিজি ফাউন্ডেশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডিএমডি ও হেড অব এ অ্যান্ড এফ, ইডাব্লিউপিডি ও বিসিডিএল মো. ইমরুল হাসান; হেড অব ডিভিশন (আরঅ্যান্ডডি) মোহাম্মদ হুসাইন আরজু এবং জেনারেল ম্যানেজার (জিওলজি অ্যান্ড মাইনিং) মো. সাজেদুল করিম।
দৈনিক ইনকিলাবের প্রয়াত সাংবাদিক হারুন অর রশিদ তালুকদারের পরিবারের পক্ষে চেক গ্রহণ করেন তাঁর ছেলে তৌহিদ হারুন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন কিডনি সমস্যায় ভুগে তাঁর বাবা মারা যান, এই সময়ে এবিজি ফাউন্ডেশন তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
দৈনিক আমাদের সময়ের প্রধান প্রতিবেদক প্রয়াত হুমায়ুন কবির খোকনের পরিবারের পক্ষে চেক নেন তাঁর স্ত্রী শারমিন সুলতানা রিনা। তিনি জানান, কোভিডে স্বামীর মৃত্যুর সময়ও বসুন্ধরা গ্রুপ তাঁদের পাশে ছিল।
দৈনিক সংবাদের অসুস্থ সাংবাদিক রাকিব উদ্দিনের পক্ষে চেক নেন তাঁর স্ত্রী নাসরিন জাহান। আর দৈনিক নয়া দিগন্তের সাংবাদিক আমানুর রহমান নিজে চিকিৎসা সহায়তার চেক গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে মো. ইমরুল হাসান বলেন, সাংবাদিকেরা সমাজের স্বচ্ছতার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেন এবং তাঁদের আর্থিক সচ্ছলতা প্রয়োজন। তিনি জানান, এবিজি ফাউন্ডেশন বিভিন্নভাবে সাংবাদিকদের পাশে থাকার চেষ্টা করছে।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে উৎসাহিত করতে বিএসআরএফ ও এবিজি ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে একটি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়, যার স্পন্সর হবে এবিজি ফাউন্ডেশন।
এর আগেও এবিজি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা, এতিম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, সাংবাদিক পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার মতো নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।