
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক হাব কুনমিংয়ে স্থায়ী প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশটির ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগ সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে এই কেন্দ্র ও গুদাম বরাদ্দ দিচ্ছে। এর ফলে চিনের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারে সারা বছর ধরে নিজস্ব পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বড় সুযোগ পাবেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ জানান, প্রদর্শনকেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য চীনা একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করার কাজ চলছে। উক্ত প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই প্রদর্শনকেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার আশা করা হচ্ছে। চীনের চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কমপ্লায়েন্স মেনে উচ্চমানের পণ্য প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের লানচাং-মেকং উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য উন্নয়ন কেন্দ্র ঢাকার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিনা মূল্যে স্পেস দেওয়ার প্রস্তাব করে। পরবর্তীতে চীনের ইউনান প্রদেশের টংদে কুনমিং প্লাজায় আয়োজিত ফল উৎসবে ইপিবি ও ইউনান বাণিজ্য বিভাগের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি (MoU) সই হয়। সেই ফল উৎসবে বাংলাদেশের নয়জন ফল উৎপাদক ও রপ্তানিকারক অংশ নেন।
সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য বাণিজ্য হয়েছে ২,২৯৬ কোটি মার্কিন ডলারের, যার মধ্যে ২,২১৪ কোটি ডলারই আমদানি। বিপরীতে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ৮২ কোটি ডলার। চীন ২০২০ সাল থেকেই সিংহভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা দিয়ে আসছে (২০২৪ সাল থেকে প্রায় সব পণ্যে), তবে প্রচার ও স্থায়ী বিপণন কেন্দ্রের অভাবে বাংলাদেশ এর পূর্ণ সুযোগ নিতে পারেনি। বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহা. খোরশেদ আলম বলেন, “এটি আমাদের রপ্তানি খাতের জন্য বিরাট সুযোগ। চীনের যেসব তৈরি পণ্য উৎপাদন কমে বা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেসব খাতের মানসম্মত পণ্য এখানে তুলে ধরতে হবে।”
| বিষয় / সূচক | বিবরণ / পরিমাণ | তাৎপর্য ও প্রভাব |
|---|---|---|
| বরাদ্দকৃত জায়গা | ২,০০০ বর্গফুট প্রদর্শনী + ২,০০০ বর্গফুট গুদাম | সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্থায়ী সুবিধা। |
| ২০২৫-২৬ মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য | ২,২৯৬ কোটি মার্কিন ডলার | বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। |
| চীন থেকে আমদানি | ২,২১৪ কোটি মার্কিন ডলার | বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি বিদ্যমান। |
| চীনে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি | ৮২ কোটি মার্কিন ডলার | স্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা। |