২০১৯ সালের ইস্টার সানডের প্রার্থনায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন শত শত মানুষ। সাত বছর পর সেই ভয়াবহ হামলার মামলায় ১৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে মোট ২০০ বছরের বেশি কারাদণ্ড দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার আদালত। তবে রায়ের পরও হামলার নেপথ্যে কারা মূল পরিকল্পনাকারী ছিল, তা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে দেশটির চার্চ ও ভুক্তভোগীদের স্বজনরা।
গত ২২ সেপ্টেম্বর কলম্বোর সুপ্রিম কোর্ট কমপ্লেক্সে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রায় ঘোষণা করা হয়। ২০১৯ সালের ইস্টার সানডে হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে ১৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, নয়জনকে খালাস দেওয়া হয় এবং একজন বিচার চলাকালীন হেফাজতে মারা যান।
"এই রায় সত্য উদঘাটনের প্রচেষ্টার শেষ নয়। হামলার নেপথ্যের কথিত মূল পরিকল্পনাকারীরা কারা ছিলেন, তা শনাক্ত করতে চার্চ ন্যায়বিচার ও সত্যের দাবি অব্যাহত রাখবে।" — ফাদার জুড ক্রিশান্থা ফার্নান্দো, কলম্বো আর্চডায়োসিস
দোষী সাব্যস্ত ১৫ জনকে ২০০ থেকে ২৬০ বছর পর্যন্ত কঠোর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন।
হামলার ভয়াবহতা
২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডের দিন শ্রীলঙ্কার কয়েকটি গির্জা ও হোটেলে ধারাবাহিক বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ২৭৯ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হন বলে মামলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বিদেশিরাও ছিলেন।
চার্চ ও ভুক্তভোগীদের প্রতিক্রিয়া
কলম্বো আর্চডায়োসিসের গণযোগাযোগ বিভাগের পরিচালক ফাদার জুড ক্রিশান্থা ফার্নান্দো রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হামলায় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা সাত বছর ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছে। কোনো কোনো পরিবারে হামলায় বাবা ও মা দুজনকেই হারাতে হয়েছে। তাই আদালতের রায় তাদের জন্য কিছুটা সান্ত্বনা নিয়ে এসেছে।
তবে ফাদার ফার্নান্দো স্পষ্ট করে বলেন, এই রায় সত্য উদঘাটনের প্রচেষ্টার শেষ নয়। হামলার নেপথ্যের কথিত মূল পরিকল্পনাকারীরা কারা ছিলেন, তা শনাক্ত করতে চার্চ ন্যায়বিচার ও সত্যের দাবি অব্যাহত রাখবে।
নাগরিক সমাজের কর্মী রুকি ফার্নান্দোও মনে করেন, সর্বশেষ রায় বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ হলেও হামলার পেছনে কারা ছিল, তার পূর্ণ চিত্র এতে পাওয়া যায়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান অন্যান্য মামলাগুলোও এগিয়ে যাবে এবং হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় প্রকাশ পাবে।
"প্রিয়জন হারানো বা আহত হওয়া মানুষরাই ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা এবং কষ্টের গভীরতা বুঝতে পারেন।" — প্রদীপ রেগান, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য
হামলায় চার বছর বয়সী মেয়েকে হারানো প্রদীপ রেগান বলেন, প্রিয়জন হারানো বা আহত হওয়া মানুষরাই ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা এবং কষ্টের গভীরতা বুঝতে পারেন। তিনি রায়কে বিচারপ্রক্রিয়ার একটি ভালো শুরু হিসেবে স্বাগত জানালেও জানতে চেয়েছেন, হামলার নির্দেশ দিয়েছিল কারা।
পূর্ববর্তী রায়: পুলিশপ্রধান ও প্রতিরক্ষা সচিবের মৃত্যুদণ্ড
এর আগে গত ৩১ জুলাই সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক পুজিথ জয়াসুন্দর এবং সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দোকে গোয়েন্দা সতর্কতা পাওয়ার পরও হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
২০১৯ সালের সেই হামলার সাত বছর পর ১৫ জনের দণ্ড ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, হামলার পূর্ণ সত্য এবং নেপথ্যের মূল পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় উদঘাটনের দাবি এখনও সামনে রয়েছে।
মূল: UCA News / Sri Lankan Church, victims' families hail Easter attack verdict