
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে সহিংসতায় দুই নাগা বেসামরিক নাগরিক গুলিতে নিহত হয়েছেন এবং অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। সেনাপতি জেলার কালেনজাং এলাকায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে একটি গ্রামের প্রধানের বাসভবনে ঢুকে সশস্ত্র হামলাকারীরা নির্বিচারে গুলি চালালে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে জানা যায়, শনিবার বিকেলে কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত কালেনজাং এলাকার এক গ্রাম প্রধানের বাড়িতে হঠাৎ প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নিহত দুজনকে রকি ও কুমার নামে শনাক্ত করা হয়েছে, যারা সেনাপতি জেলার পৃথক দুটি গ্রামের বাসিন্দা। গুলিতে আহত অন্য দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিকটস্থ সেনাপতির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মণিপুরে নাগা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর তিন দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। এর মাত্র দুদিন আগে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কামজং জেলায় এক সশস্ত্র হামলায় চার নাগা নাগরিক নিহত হন এবং ৪০টি বসতবাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক এসব হামলার পেছনে সশস্ত্র কুকি সম্প্রদায়ের সদস্যরা যুক্ত থাকতে পারেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, হামলার প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সাথে জড়িত তা তদন্তাধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউম্নাম খেমচাঁদ সিং অকুস্থল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে মাও এলাকায় একটি কলেজের রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে ছিলেন। হামলার খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে নিরীহ মানুষের ওপর ‘কাপুরুষোচিত সহিংসতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
মুখ্যমন্ত্রী নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নাগা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনার সময় ও স্থান | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শনিবার বিকেল); কালেনজাং, সেনাপতি জেলা, মণিপুর। |
| হতাহতের সংখ্যা | নিহত ২ জন (রকি ও কুমার), আহত ২ জন। |
| পূর্ববর্তী হামলা (২৪ সেপ্টেম্বর) | কামজং জেলায় ৪ নাগা নাগরিক নিহত এবং ৪০টি ঘরবাড়ি অগ্নিদগ্ধ। |
| প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া | মুখ্যমন্ত্রী ইউম্নাম খেমচাঁদ সিং কর্তৃক নিন্দা প্রকাশ ও হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসার নির্দেশ। |