বর্ণবৈষম্য অবসানে ২৫ বছর আগে বিশ্ব যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণ থেকে এখনো অনেক দূরে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন খান।
জাতিসংঘে ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার (ডিডিপিএ) ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
রাষ্ট্রদূত আইরিন খান বলেন, ২৫ বছর আগে ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনায় সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করা হয়েছিল- জাতি, বর্ণ, বংশপরিচয় কিংবা জাতীয় বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না।
কিন্তু সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন থেকে বিশ্ব এখনো অনেক দূরে। এ সময় তিনি ডিডিপিএর পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বাস্তবায়নে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত আইরিন খান দাস প্রথা, ঔপনিবেশিকতা ও অন্যান্য ঐতিহাসিক অবিচার থেকে সৃষ্ট কাঠামোগত বৈষম্য মোকাবিলায় ন্যায়বিচার, শিক্ষা, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি অভিবাসী, শরণার্থী, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু, নারী, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা মানুষের অধিকার সুরক্ষা জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তিকে ঘৃণা ও সহিংসতায় উসকানি ছড়ানোর পরিবর্তে টেকসই উন্নয়নের কাজে লাগাতে হবে। একইসঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশে মানবাধিকার, সমতা ও বৈষম্যহীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
আইরিন খান বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে অনলাইন ও অফলাইন-উভয় ক্ষেত্রেই সব মানুষের বৈচিত্র্য ও মর্যাদা সমুন্নত থাকবে।