
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও হুমকি উপেক্ষা করেই দেশটির সঙ্গে বিমান যোগাযোগ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে চীন। বেইজিং জানিয়েছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া ওয়াশিংটনের জারি করা কোনো একতরফা নিষেধাজ্ঞার আইনি ভিত্তি নেই এবং তারা তা মেনে চলবে না।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে, আন্তর্জাতিক নিয়মবহির্ভূত কোনো সিদ্ধান্তের কাছে বেইজিং মাথা নত করবে না এবং তেহরানের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত স্বাভাবিক কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে ওয়াশিংটন হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, ইরানের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখলে বিদেশি সংস্থা ও দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের চাপের মুখে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ তেহরানের সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করেছে। তবে চীন এই অবস্থান থেকে সরে এসে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটনের নীতি বাস্তবায়নে বেইজিং কোনো বাধ্যবাধকতা অনুভব করে না।
মস্কো-বেইজিং-তেহরান অক্ষ
পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে গুঞ্জন উঠেছিল যে চীন, রাশিয়া ও ইরানের ত্রিপক্ষীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও বেইজিংয়ের সরাসরি অবস্থানকে ঘিরে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেই আশঙ্কার কোনো ভিত্তি নেই।
ইউরেশিয়া অঞ্চলের এ প্রধান শক্তিগুলো আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। বেইজিং ও মস্কোর মতে, আন্তর্জাতিক আইনকে তোয়াক্কা না করে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রবণতা বৈশ্বিক অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।
ইরানি বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক চাপ মেনে নিয়ে যে দেশগুলো তেহরানের সঙ্গে বিমান চলাচল ও বাণিজ্যিক সংযোগ বন্ধ করছে, তারা দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে, চীনের এ সিদ্ধান্ত বিশ্বরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একক কর্তৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
(সূত্র: মেহের নিউজ)