
রাজধানীর মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় বিদেশে অবস্থানরত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা অপরাধ সিন্ডিকেটের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চরম আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি বাইগারটেক এলাকায় আবাসন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের ২৮ কাঠা জমি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দখল করে নিয়েছে দুর্ধর্ষ ‘মামুন বাহিনী’। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে মিরপুর অঞ্চলজুড়ে জমি দখল, কোটি টাকার চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও হত্যাকাণ্ড পরিচালনায় চার শীর্ষ সন্ত্রাসীর ‘ফোর স্টার গ্রুপ’ সক্রিয় রয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আবাসন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী জানান, পল্লবীর বাইগারটেক এলাকায় তাঁর ২৮ কাঠা জমির সীমানাপ্রাচীর ও পাঁচটি ঘর গত ৩০ এপ্রিল রাতে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমার প্রায় ২৫ কোটি টাকার জমি মামুন বাহিনীর সন্ত্রাসীরা দখল করেছে। মামুনের ভাই মশিউর ফোন দিয়ে আমাকে জমিতে যেতে নিষেধ করেছে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামুন বাহিনীর মূল নিয়ন্ত্রক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমান মামুন বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। তিনি সেখানে বসেই দেশের দুই ভাই জামিল ও মশিউরের মাধ্যমে বাহিনী পরিচালনা করেন। মামুনের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ পল্লবী থানায় ২৭টি মামলা ও একাধিক সাজা পরোয়ানা রয়েছে।
মিরপুরের প্রায় ২৩০টি পোশাক কারখানার মধ্যে শতাধিক গার্মেন্টস মামুন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব কারখানা থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় ও ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে তারা ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের মতো ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। এর আগে ‘এ কে বিল্ডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ৫ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল।
চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়া এবং ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে গত ১৭ নভেম্বর পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ এ মামলায় যে তিন শুটারকে গ্রেপ্তার করেছে, তারা প্রত্যেকেই মামুন বাহিনীর সদস্য।
মিরপুরে বড় সন্ত্রাসীদের বাহিনীর পাশাপাশি ‘ভইরা দে গ্রুপ’ ও ‘বাহুবলী গ্রুপ’-এর মতো একাধিক সশস্ত্র কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। ডিএমপি সম্প্রতি ঢাকার চাঁদাবাজদের যে তালিকা তৈরি করেছে, তাতে মিরপুরের ৭টি থানা এলাকার ৭২ জন চাঁদাবাজ ও ২৫ জন আশ্রয়দাতার নাম রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ওসমান গণি জানান, বিদেশে অবস্থানরত অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনগত পদক্ষেপ নিতে প্রয়োজনে ইন্টারপোলের মাধ্যমে **‘রেড নোটিশ’** জারি করা হবে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধে জড়ালে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
| বাহিনীর নাম ও প্রধান | নিয়ন্ত্রিত এলাকা | প্রধান অপরাধসমূহ |
|---|---|---|
| মামুন বাহিনী (মফিজুর রহমান মামুন) | পল্লবী, মিরপুর-১২, সাগুফতা ও বাউনিয়া | জমি দখল, ঝুট ব্যবসা, খুন ও ককটেল হামলা। |
| ইব্রাহিম বাহিনী (কিলার ইব্রাহিম) | মিরপুর-১৩, ১৪, ভাষানটেক ও কালশী | চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ। |
| শাহাদত বাহিনী (শাহাদত হোসেন) | মিরপুর-১, ২ ও ৬ নম্বর এলাকা | ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁদা ও দখলদারি। |
| মোক্তার বাহিনী (মোক্তার) | মিরপুর-১০ ও ১১ নম্বরের অংশবিশেষ | ইন্টারনেট, ডিশ লাইন ও ফুটপাত চাঁদাবাজি। |