
মাগুরায় এক গ্রাহকের ঘরে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ভূতুড়ে বিল তৈরির ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা হলেন মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলাম।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের নির্দেশে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।
অভিযোগ ওঠার পর বিদ্যুৎমন্ত্রী নিজে ভুক্তভোগী গ্রাহককে ফোন করে অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের এই বিলটি পাঠানো হয়।
বিল কাগজে দেখা যায়, মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচের বিপরীতে মোট পাওনা ধরা হয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম জানান, এটি মূলত একটি প্রযুক্তিগত ও পোস্টিং সংক্রান্ত ভুল।
"গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের সময় ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের সংখ্যাগুলো ডিজিটাল সিস্টেমে ডিমান্ড চার্জের ঘরে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়।" — মো. রেজাউল করিম, ডিজিএম, মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিদ্যুৎমন্ত্রী সরাসরি ভুক্তভোগী পরিবারকে ফোন দেন। ফোনে তিনি জানান:
ইতোমধ্যে আগের ভুল বিল বাতিল করে সঠিক অঙ্কের নতুন বিল গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতে পরিষেবা সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতা দেখা দিলে গ্রাহকদের সরাসরি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার অনুরোধ জানান তিনি।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রাহকসেবায় গাফিলতি এবং বিদ্যুৎ বিলে কারিগরি ভুলের বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।