![]()
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত’ বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, ফ্যাসিজমের দোসররা পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুত হয়ে এসে এই তাণ্ডব চালিয়েছে। তবে হামলা চালিয়ে অভিযান বন্ধ করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, নগরবাসীর স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের স্বার্থে ফুটপাত উদ্ধারের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
- 🔥 পরিকল্পিত হামলা ও অগ্নিসংযোগ: উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে ডিএনসিসির গাড়িতে হামলা, আগুন এবং পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ।
- 📢 এলাকায় মিছিল ও শোডাউন: ঘটনার পর ফুটপাত ফাঁকা, ডিএনসিসি প্রশাসক ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল।
- ⚖️ জোড়া মামলার প্রস্তুতি: অরাজকতা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সিটি করপোরেশন ও পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক মামলা দায়েরের ঘোষণা।
- 🚨 পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: অভিযানের শুরুতে পুলিশের পর্যাপ্ত উপস্থিতি না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ডিএনসিসি প্রশাসক।
উচ্ছেদ অভিযানে হামলা ও অরাজকতার চিত্র
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় অননুমোদিত ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযানে নামে ডিএনসিসির টিম। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, উচ্ছেদ শুরু হতেই দখলদার ফুটপাত ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হয়ে ডিএনসিসির যানবহনে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে এবং একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ সময় হামলাকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সংবাদকর্মী আহত হন। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
‘ফ্যাসিজমের দোসরদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে’
দুপুর ১টার দিকে মিরপুরের হোপ মার্কেট এলাকায় পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, “আজকের ঘটনাটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। যারা ঘটিয়েছে, তারা আগে থেকেই অরাজকতা সৃষ্টি করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। পরিকল্পিতভাবে তারা বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দিয়ে ও সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। এরা ফ্যাসিজমের দোসর ছাড়া আর কেউ নয়।”
ডিএনসিসি প্রশাসক আরও বলেন, “আমি মিরপুরের সন্তান, এই মাটিতেই আমার জন্ম। এখানে কে কী করে, তা আমার চেয়ে ভালো কেউ জানে না। এই অপশক্তির দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। নগরবাসীর জন্য ফুটপাত উদ্ধারের যে নৈতিক দায়িত্ব আমরা নিয়েছি, তা চলমান থাকবে। কোনো ইন্ধনদাতাকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
মামলার প্রস্তুতি ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা
আহত সাংবাদিকদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রশাসক জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা কঠোরভাবে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন হামলাকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
তবে অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে শফিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযান শুরু হলেও শুরুতে পুলিশ সদস্যদের যথাযথ উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তাদের প্রস্তুতি আরও জোরদার হওয়া উচিত ছিল।” ঘটনা শেষে ডিএনসিসির প্রশাসক এবং স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের গোলচত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় মিছিল ও শোডাউন দিতে দেখা গেছে।
মিরপুর-১০ গোলচত্বর ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য বিবরণী
| বিষয়/ঘটনাবলী | বিবরণ ও বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| ঘটনাস্থল ও সময় | মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর | বুধবার সকাল ৯:৩০ মি (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬)। |
| সহিংসতার ধরন | ডিএনসিসির গাড়িতে হামলা-অগ্নিসংযোগ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, পুলিশ ও সাংবাদিক আহত। |
| প্রশাসকের মূল বক্তব্য | হামলাটি ‘ফ্যাসিজমের দোসরদের’ পরিকল্পিত; যেকোনো মূল্যে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা হবে। |
| আইনি পদক্ষেপ | ডিএনসিসি ও পুলিশের পক্ষ থেকে অরাজকতাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন। |
| বর্তমান পরিস্থিতি | পরিস্থিতি শান্ত; হকার ও অবৈধ দখলদারমুক্ত এলাকার দখল ডিএনসিসির নিয়ন্ত্রণে। |
