
প্রযুক্তি জগতের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে দৈনন্দিন নানা কাজ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত অনুভূতির আদান-প্রদানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)-এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তবে প্রযুক্তি ও মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন—এআই কখনোই মানুষের বিকল্প কিংবা প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না। সংবেদনশীল ও জীবনমুখী চারটি বিষয়ে এআইয়ের পরামর্শ গ্রহণে মারাত্মক ঝুঁকির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত চ্যাটবটগুলো সাধারণত ব্যবহারকারীর আচরণ ও ভাষার ধরণ বিশ্লেষণ করে উত্তর তৈরি করে। তবে বিশেষজ্ঞেরা জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক অ্যালগরিদমের মূল উদ্দেশ্য থাকে ব্যবহারকারীকে অ্যাপে আটকে রাখা। ফলে কোনো বিষয়ে সত্য ও সৎ মতামত দেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের মতো নৈতিকতা এআইয়ের থাকে না।
১. চেহারা ও রূপচর্চার মূল্যায়ন: নিজের পোশাক, চেহারা বা সৌন্দর্য নিয়ে এআইয়ের মত চাওয়া নিরর্থক। বাস্তব জীবনের কোনো নির্ভরযোগ্য বন্ধু যেমন সততার সাথে ভুল ধরিয়ে দিতে পারে, তোষামোদভিত্তিক অ্যালগরিদম তা পারে না।
২. আবেগ ও ভালোবাসার প্রশ্ন: "কেউ আপনাকে ভালোবাসে কি না"—এমন প্রশ্নের উত্তরে এআই বানানো সহানুভূতি দেখায়। কিন্তু মানুষের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা বা হৃদয় দিয়ে অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা মেশিনের নেই। আবেগের সহায়তায় কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা পেশাদার থেরাপিস্টের শরণাপন্ন হওয়াই নিরাপদ।
৩. বুদ্ধিমত্তা ও আত্মমর্যাদা যাচাই: নিজের বুদ্ধিমত্তা বা মেধার মূল্যায়ন এআইয়ের মাধ্যমে করানো মানসিক ভ্রান্তির জন্ম দেয়। বিশাল তথ্য সংগৃহীত থাকা আর আত্ম সচেতনতা অর্জন করার মধ্যে বিশাল ফারাক বিদ্যমান।
৪. গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত: অর্থসংক্রান্ত পরিকল্পনা বা জটিল আর্থিক হিসাবের ক্ষেত্রে এআই অনেক সময় বাস্তবসম্মত সমাধানের বদলে অস্পষ্ট ও নীতিবাক্যমূলক উত্তর দেয়। তাই আর্থিক সুপরামর্শের জন্য সার্টিফাইড হিসাবরক্ষক বা বিশেষজ্ঞদের দ্বারস্থ হতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রযুক্তিকে দৈনন্দিন কাজের দ্রুততার জন্য ব্যবহার করা ভালো, তবে নিজের অনুভূতি ও সামাজিক জীবনের মানসিক চালিকাশক্তি এআইয়ের হাতে সঁপে দেওয়া বিপজ্জনক। সুস্থ মানসিক বিকাশ ও সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য বাস্তব সমাজ ও ঘনিষ্ঠ মানুষের সম্পর্কের ওপরই আস্থা রাখার আহ্বান তাদের।
| সংবেদনশীল বিষয় | এআইয়ের মূল সীমাবদ্ধতা | সঠিক ও নিরাপদ বিকল্প |
|---|---|---|
| সৌন্দর্য ও রূপচর্চা | ব্যবহারকারীকে তোষামোদ করার অ্যালগরিদম ভিত্তিক বার্তা। | বাস্তব জীবনের বিশ্বস্ত বন্ধুবান্ধব বা স্টাইলিষ্ট। |
| প্রেম ও অনুভূতি | কৃত্রিম সহানুভূতি; অনুভূতির গভীরতা বোঝার অক্ষমতা। | কাছের মানুষ অথবা পেশাদার সাইকোলজিস্ট/থেরাপিস্ট। |
| মেধা ও যোগ্যতার মাপকাঠি | তথ্য জমাকরণ ক্ষমতা থাকলেও অনুভূতির অভাব। | আত্ম-মূল্যায়ন, শিক্ষাবিদ ও দক্ষ মেন্টর। |
| আর্থিক পরিকল্পনা | বাস্তব বাজার বিশ্লেষণের বদলে সুনির্দিষ্ট নয় এমন দার্শনিক বক্তব্য। | সার্টিফাইড ফিন্যান্সিয়াল প্ল্যানার বা হিসাবরক্ষক। |