
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি মানসিক চাপ কমানো এবং ‘কর্টিসল’ নামের স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে আনার উপায় হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ডার্ক শাওয়ারিং’ বা অন্ধকারে গোসলের প্রবণতা।
অনেকের দাবি, সম্পূর্ণ অন্ধকারে বা মৃদু আলোতে গোসল করলে মানসিক চাপ কমে আসে এবং মন শান্ত হয়। এমনকি মাত্র ৩০ সেকেন্ডের অন্ধকার গোসল অবচেতন মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও কেউ কেউ প্রচার করছেন।
তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞরা এই দাবিকে কিছুটা অতিরঞ্জিত বলেই মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতামত
মনোবিজ্ঞানী ড. নাওমি মারফির মতে, অন্ধকারে গোসলের এই ধারণার সাথে মূলত ঠান্ডা পানিতে শরীর ভিজিয়ে মানসিক চাপ দূর করার যে পুরনো প্রবণতা রয়েছে, তার সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি জানান, ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে শুরুতে শরীরে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হয়। ঠান্ডা পানির ধাক্কায় স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়ে সাময়িকভাবে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তবে গোসল শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে এই হরমোনের মাত্রা কমে আসে, যা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।
তবে অন্ধকারে গোসল করলেই সাথে সাথে কর্টিসলের মাত্রা কমে যাবে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
চিকিৎসক ড. সিনথিয়া ওডগু বলেন, রক্তে কর্টিসলের মাত্রা কমতে সাধারণত কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। তিনি আরও সতর্ক করেন যে, হৃদরোগী ও স্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য হঠাৎ অতিরিক্ত ঠান্ডা পানিতে গোসল করা বিপজ্জনক হতে পারে।
কোন তাপমাত্রার পানি বেশি কার্যকর?
গবেষণা বলছে, কর্টিসল কমানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানির চেয়ে মৃদু গরম পানি বেশি কার্যকর হতে পারে।
উষ্ণ পানি: ইউরোপিয়ান জার্নাল অব অ্যাপ্লায়েড ফিজিওলজি-তে প্রকাশিত গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে ড. ওডগু জানান, প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রার পানিতে গোসল করলে রক্তে কর্টিসলের মাত্রা প্রায় ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
অতিরিক্ত গরম পানি: তবে পানির তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যা উল্টো কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
তাহলে অন্ধকারে গোসলের কি কোনো উপকার নেই?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একদম অন্ধকার না হলেও কম আলো বা মৃদু পরিবেশে গোসল করার কিছু মানসিক সুবিধা রয়েছে। সারাদিনের ব্যস্ততার পর কম আলো চোখের এবং মস্তিষ্কের ওপর থেকে অতিরিক্ত উদ্দীপনা কমায়। এটি শরীরের প্রাকৃতিক ঘুমের ছন্দ বা 'সার্কাডিয়ান রিদম' বজায় রাখতে সাহায্য করে।
চিকিৎසকদের পরামর্শ হলো, ‘ডার্ক শাওয়ারিং’-কে কর্টিসল কমানোর জাদুকরী কোনো উপায় হিসেবে না দেখে দিনের শেষে একটি রিলাক্সিং অভ্যাস হিসেবে ভাবা যেতে পারে। বাথরুমে আলো কিছুটা কমিয়ে শান্ত পরিবেশ তৈরি করা, মৃদু গান শোনা বা সুগন্ধি ব্যবহার করা মানসিক চাপ দূর করে ভালো ঘুমে সহায়তা করতে পারে।
সূত্র: জিকে