
আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস ও মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মজয়ন্তীতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার বিরুদ্ধে শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী।
তিনি বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সহিংসতা বাড়ার এই সময়ে গান্ধীজির অহিংসা ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক ও জরুরি হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে মহাত্মা গান্ধী এবং ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর ১৫৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, "মহাত্মা গান্ধী ছিলেন সব মানুষ ও সব ধর্মের মানুষের জন্য শান্তির প্রতীক। তাঁর অহিংস বার্তা আজও শান্তির পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। গান্ধীজির মতো এমন স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্ব পৃথিবীতে সত্যিই বিরল।"
গান্ধীজির আদর্শ ও জীবনযাত্রার কথা স্মরণ করে দিনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, "তাঁর জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ, কিন্তু ব্যক্তিত্ব ছিল অসাধারণ। 'যত মত, তত পথ' নীতিতে তিনি বিশ্বাস করতেন। তাঁর জীবনদর্শনের আদর্শ যদি আমরা দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করতে পারি, তবে আমরা অনেকটা এগিয়ে যেতে পারব।"
আলোচনায় ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর অবদানও স্মরণ করেন হাইকমিশনার। তিনি উল্লেখ করেন, শাস্ত্রীর ঐতিহাসিক ‘জয় জওয়ান, জয় কিষান’ স্লোগানের সঙ্গে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘জয় বিজ্ঞান, জয় অনুসন্ধান’ যুক্ত করেছেন, যা আধুনিক ভারতের নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করছে।
অনুষ্ঠান শেষে দুই মহান নেতার জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ ফ্যাশন শো অনুষ্ঠিত হয়।
দেশজুড়ে হাইকমিশনের নানা কর্মসূচি
মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহীর সহকারী হাইকমিশন নানা কর্মসূচি পালন করেছে।
ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে ১৮ থেকে ২৬ বছর বয়সি শিক্ষার্থীদের জন্য পোস্টার তৈরি ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম সহকারী হাইকমিশনের উদ্যোগে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে পরিচালনা করা হয় এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক ও সামাজিক সেবামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়।