
লোকাল বাসের টিকিট কাটাকাজ ও আসন বণ্টন কেন্দ্র করে দু’পক্ষের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মাদারীপুরের কালকিনি ও বরিশালের গৌরনদী সীমান্ত এলাকা। ককটেল বিস্ফোরণ, দোকানপাট ভাঙচুর ও মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে কালকিনি উপজেলার সীমান্তবর্তী ভূরঘাটা সেতুর ওপর এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিরোধের শুরু গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর)। মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা এমারত ঘরামী অসুস্থতা নিয়ে বরিশাল যাওয়ার জন্য ভূরঘাটার একটি বাস কাউন্টারে সামনের আসনের টিকিট চান। কাউন্টার প্রতিনিধি আসন দিতে না চাইলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কাউন্টার কর্মী সবুজ ফকির ও তার আত্মীয় আকাশ ফকিরের সঙ্গে এমারতের মারামারির ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও দ্বিতীয় দফায় হাতাহাতি হয়। এর জের ধরেই শুক্রবার রাতে উভয় পক্ষের সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভূরঘাটা সেতু এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ককটেল বিস্ফোরণ ও দোকানপাট ভাঙচুর
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে পুরো এলাকা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এ সময় ভূরঘাটা বাজারের একাধিক দোকানপাটে ভাঙচুর চালানো হয়। উত্তেজিত সংক্ষুব্ধ পক্ষ মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
সংঘর্ষে আহত জান্নাত (২৬), আল-আমিন (৩৩) ও শান্ত (১৬)-সহ অন্তত ১০ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও পুলিশের পদক্ষেপ
ঘটনার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। আহত এমারত ঘরামীর দাবি, কাউন্টার কর্মী সবুজই অন্যায়ভাবে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত করেছেন। অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সবুজ ফকির বলেন, "আমার কোনো দোষ ছিল না, এমারতই প্রথম আমাদের ওপর হামলা চালায়।"
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কালকিনি ও গৌরনদী—দুই থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ ও তৎপরতার মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম জানান, "টিকিট কাটাকাজ নিয়ে বিরোধের জেরেই এই সংঘাত। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।"
ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই প্রতিবেদনটি যুগান্তরে প্রকাশিত প্রাথমিক রিপোর্টের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে শুধুমাত্র জনস্বার্থ ও সামাজিক সচেতনতার উদ্দেশ্যে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংবাদের প্রাথমিক তথ্য, মন্তব্য বা যেকোনো আইনি বিবৃতির মূল সত্যতা ও দায়ভার সংশ্লিষ্ট সংবাদসূত্রের (যুগান্তর)। এই সংবাদের বিষয়বস্তু বা তথ্যের ভিত্তিতে (Touch Bangladesh) কোনো প্রকার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আইনি দায়ভার গ্রহণ করবে না।