
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডা ও ধাওয়াধাওয়ির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার একপর্যায়ে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা গেট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত
সাধারণ শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, সজল নামের এক ব্যক্তি ফেসবুকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করে একটি পোস্ট করেন। পোস্টটিতে ওই ব্যক্তি নিজেকে সরকারি বিএল কলেজের শিক্ষার্থী বলে দাবি করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়লে তার সত্যতা ও পরিচয় নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী সজলকে খাজা গেট এলাকায় ডেকে আনেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী মাহিনুল হক আবির জানান, সজলের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজন এসে বাধা দেন।
"তারা নিজেদের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী বা ট্রাকস্ট্যান্ডের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে বিতর্কিত ফেসবুক পোস্টটি সবার সামনে পড়ে শোনানো হলে, উপস্থিত স্থানীয়রাই হঠাৎ ওই যুবককে মারধর শুরু করেন," বলেন মাহিনুল।
শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং বিষয়টির আইনি ও প্রশাসনিক সুরাহা করতে অভিযুক্ত যুবককে উদ্ধার করে ক্যাম্পাসের মূল ফটকের ভেতরে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন।
মাইকিং ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সজলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে মাদক সংক্রান্ত বিষয় সামনে এলে সেখানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা বাবু, মনিরুজ্জামান লেলিন ও রহিমের নেতৃত্বে কিছু বহিরাগত লোক জড়ো হন। তারা অভিযুক্ত যুবককে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে ধাক্কাধাক্কি করে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। আর্কিটেকচার ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ রাতুল অভিযোগ করেন, হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি মসজিদের মাইক ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে উল্টো উসকানি দিয়ে লোক জড়ো করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
ইটপাটকেলের আঘাতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে ক্যাম্পাসের ভেতরের শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে এগিয়ে এলে বহিরাগতরা ঘটনাস্থল ছেড়ে সরে যায়।
প্রশাসন ও পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক (ডিএসএ) অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, "বিষয়টি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
তিনি আরও জানান, কারা মসজিদের মাইক ব্যবহার করে উসকানিমূলক ঘোষণা দিয়েছে এবং এ হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, খুলনা হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া যুবক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
"উভয় পক্ষের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রভোস্ট ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে," বলেন তিনি।
এই সংবাদটি দৈনিক যুগান্তর-এ প্রকাশিত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে জনস্বার্থে প্রকাশিত। তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা ও প্রাথমিক সত্যতার সম্পূর্ণ দায় মূল সংবাদসূত্রের। এই সংবাদের ভিত্তিতে ' (Touch Bangladesh) কোনো আইনি দায়ভার গ্রহণ করবে না।