
ইরান ইস্যু ও যুদ্ধ পরিস্থিতি সামলাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিংহভাগ নাগরিক চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতির প্রভাবে জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ আমেরিকানদের মধ্যে বাড়ছে তীব্র উদ্বেগ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের যৌথভাবে পরিচালিত এক জাতীয় জরিপের ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ৬৯ শতাংশই মনে করছেন ইরানের সঙ্গে দেশটির যুদ্ধ জড়িয়ে পড়া কোনো যৌক্তিক বিষয় ছিল না। চলতি বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এই বিরূপ মতামত প্রকাশকারীর সংখ্যা আরও ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি, ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামগ্রিক পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৭১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক।
যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা এবং জীবনযাত্রার লাগামহীন খরচ নিয়ে ভোটারদের শঙ্কা এখন চরমে।
জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা গাড়ির জন্য জ্বালানি কেনার ব্যয় বহন করা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা জুলাই মাসে ছিল ৩৯ শতাংশ। একই হারে প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ প্রতিদিনের খাবার কেনাকাটার ব্যয় সামাল দেওয়া নিয়েও শঙ্কিত।
এমন এক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রিপাবলিকান ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ করতে টেক্সাস ও ওকলাহোমায় জোর প্রচারণা শুরু করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রিপাবলিকান সমর্থকদের দুই-তৃতীয়াংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিকে ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরের কারণ হিসেবে দেখালেও, অন্তত এক-তৃতীয়াংশের স্পষ্ট মত—বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের ভুল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যনীতিই সরাসরি এই মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী। জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি নাগরিক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির সামগ্রিক পরিস্থিতি ও অর্থনীতি আগের চেয়ে আরও খারাপ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই যুদ্ধ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার দলের রাজনৈতিক ফলাফলে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না—এমন প্রশ্নের মুখে পড়েন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
উত্তরে ট্রাম্প বলেন, "এমনটা হওয়া সম্ভব। তবে দিনশেষে এটি আমাদের দলের জন্যই লাভজনক হবে, কারণ আমরা নিশ্চিত করছি যে ইরানের হাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।"
জরিপের এই নেতিবাচক ফলাফলকে সরাসরি উড়িয়ে দিয়ে তিনি জরিপ পরিচালনাকারীদের কড়া সমালোচনা করেন। এসব জরিপকে 'দুর্নীতিগ্রস্ত' ও 'ভুয়া' অভিহিত করে তিনি দাবি করেন, এই মুহূর্তে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তিনি অন্তত ২০ পয়েন্টের ব্যবধানে বিপুল জয় পাবেন।
(সূত্র: আল জাজিরা)