দীর্ঘ আক্ষেপের অবসান: বিশ্বকাপে আজ মুখোমুখি হ্যালান্ডের নরওয়ে ও রক্ষণাত্মক ইরাক | স্পোর্টস ডেস্ক, টাচবাংলাদেশ
দীর্ঘ দশকের অপেক্ষা শেষে বিশ্বমঞ্চে ফিরছে তারা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের 'গ্রুপ আই'-এর নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগামীকাল (বুধবার) ভোর ৪:০০ টায় মুখোমুখি হতে যাচ্ছে নরওয়ে এবং ইরাক। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের বস্টন স্টেডিয়ামে (জিলেট স্টেডিয়াম) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, কারণ আন্তর্জাতিক ফুটবলে এর আগে কখনোই একে অপরের মোকাবেলা করেনি তারা।
দীর্ঘ বিরতি শেষে বিশ্বমঞ্চে ফেরা:
এই ম্যাচটি উভয় দেশের জন্যই আবেগ ও আক্ষেপ ঘোচানোর এক অনন্য সুযোগ। আর্সেনাল তারকা মার্টিন ওডেগার্ড এবং ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হ্যালান্ডকে নিয়ে গড়া নরওয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর পর (সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে) বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে নামছে। অন্যদিকে, এশিয়া থেকে প্লে-অফের রোমাঞ্চকর বাধা পেরিয়ে ৪৮তম এবং সর্বশেষ দল হিসেবে টিকিট কাটা ইরাক বিশ্বকাপে ফিরছে দীর্ঘ ৪০ বছর পর। সেই ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বমঞ্চে দেখা যাবে তাদের।
হ্যালান্ড-ওডেগার্ডদের আক্রমণ বনাম ইরাকের রক্ষণ:
স্টেল সোলবাকেনের অধীনে নরওয়ে এবারের টুর্নামেন্টে অন্যতম 'ডার্ক হর্স' হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাদের ৪-৩-৩ ফর্মেশনের আক্রমণভাগে আর্লিং হ্যালান্ড এবং আলেকজান্ডার সোরলথের মতো ফরোয়ার্ডরা যেকোনো দলের রক্ষণের জন্য এক আতঙ্কের নাম। ওডেগার্ডের প্লে-মেকিং থেকে পাওয়া বলগুলো জালে জড়াতে হ্যালান্ড যে কতটা ভয়ংকর, তা সবারই জানা।
অন্যদিকে, গ্রাহাম আর্নল্ডের অধীনে থাকা ইরাক মূলত তাদের রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলার (Defensive Discipline) ওপর নির্ভরশীল। ৪-২-৩-১ ছকে খেলে প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করে কাউন্টার অ্যাটাকে আইমান হোসেনের মতো নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকারের মাধ্যমে গোল আদায় করাই হবে তাদের মূল কৌশল।
বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন রাঙাতে হ্যালান্ডদের আক্রমণাত্মক ফুটবল নাকি ইরাকের জমাট রক্ষণ—বস্টনে আজ শেষ হাসি কে হাসে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।