
বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট মিলিয়ে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যার পুরো অংশই সরবরাহ করা হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম জানান, আগে বিভিন্ন সময়ে কারিগরি ত্রুটি ও সাময়িক গোলযোগের কারণে উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধান করে উভয় ইউনিটকে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় সচল রাখা সম্ভব হয়েছে এবং দুটি ইউনিট থেকে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন নেটওয়ার্কে নির্বিঘ্নে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
রামপাল মেগা পাওয়ার প্ল্যান্টের কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে বর্তমানে ৬৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৬৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়ে গ্রিডে পাঠানো হচ্ছে। জাতীয় গ্রিডে এই ১,৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ায় খুলনা, বরিশালসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও সামগ্রিক জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে ২০১০ সালে এই মেগা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশনের (এনটিপিসি) মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই যৌথ চুক্তি ও অংশীদারত্বের আওতায় গঠিত হয় ‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড’ (বিআইএফপিসিএল), যা কেন্দ্রটির সার্বিক নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।
| বিষয় / ক্ষেত্র | তথ্য ও পরিসংখ্যান |
|---|---|
| মোট সর্বোচ্চ উৎপাদন | ১,৩২১ মেগাওয়াট (নতুন রেকর্ড) |
| প্রথম ইউনিটের উৎপাদন | ৬৫৬ মেগাওয়াট |
| দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন | ৬৬৫ মেগাওয়াট |
| পরিচালনা পর্ষদ | বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (BIFPCL) |
| অংশীদারিত্ব চুক্তি | ২৯ জানুয়ারি ২০১২ (BPDB ও NTPC-এর মধ্যে) |