
তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ, দুর্নীতির কেলেঙ্কারি এবং ভোটারদের অনাগ্রহের আবহেই আজ রোববার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন ব্রাজিলের কোটি কোটি মানুষ। বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম এই দেশটিতে ক্ষমতার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছেন বর্তমান বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। ফ্লাভিও ব্রাজিলের কারাবন্দি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন কেবল ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা নয়, বরং পুরো লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
দুই বিপরীতমুখী ভাবাদর্শের লড়াই
আমেরিকাস সোসাইটি/কাউন্সিল অব দ্য আমেরিকাসের নীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও নীতি বিশ্লেষক ব্রায়ান উইন্টার বিবিসিকে বলেন, "এটি মূলত ব্রাজিলকে কেন্দ্র করে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দর্শনের লড়াই।"
৮০ বছর বয়সি লুলা চতুর্থ এবং সম্ভবত তাঁর ক্যারিয়ারের শেষবারের মতো প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসার লড়াইয়ে নেমেছেন। ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করা লুলা দুর্নীতির মামলায় ৫৮০ দিন কারাভোগের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কারামুক্ত হন। পরে ২০২২ সালের নির্বাচনে জাইর বলসোনারোকে হারিয়ে তিনি ঐতিহাসিকভাবে আবারও ক্ষমতায় ফেরেন।
অন্যদিকে, ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো তাঁর বাবার তৈরি রাজনৈতিক অবস্থানকে পুঁজি করে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনের পর ক্যু বা সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২৭ বছর ৩ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করছেন জাইর বলসোনারো। তিনি বর্তমানে স্বাস্থ্যগত কারণে গৃহবন্দি। বাবার অনুপস্থিতিতে সেই রক্ষণশীল ভোটব্যাংক নিজের বাক্সে তোলাই ফ্লাভিওর প্রধান লক্ষ্য।
লুলা ও ফ্লাভিও ছাড়াও এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও চারজন প্রার্থী। তারা হলেন মধ্যপন্থি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও লেখক অগুস্তো কুরি, গোয়াস রাজ্যের গভর্নর রোনালদো কাইয়াদো, ডানপন্থি নেতা রেনান সান্তোস এবং সাবেক গভর্নর রোমেউ জেমা।
ভূ-রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া
ব্রাজিলে ভোটারদের উপস্থিতি সবসময়ই বেশি থাকে, কারণ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের জন্য ভোটদান বাধ্যতামূলক। তবে রোববারের এই ভোটের গুরুত্ব দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিস্তৃত।
বিশ্লেষকদের মতে, ফ্লাভিও বলসোনারো জয়ী হলে ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি অনুসৃত ডানপন্থি রক্ষণশীল শিবিরের দিকে ঝুঁকবে। অন্যদিকে লুলা জয়ী হলে ব্রিকসসহ (BRICS) আন্তর্জাতিক মঞ্চে ব্রাজিলের বিদ্যমান বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি বজায় থাকবে।
দ্বিতীয় দফায় গড়াতে পারে ভোট
নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী, আজ প্রথম দফার নির্বাচনে কোনো প্রার্থী যদি মোট বৈধ ভোটের অর্ধেকের বেশি (৫০ শতাংশের বেশি) না পান, তবে আগামী ২৫ অক্টোবর রানঅফ বা দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সে ক্ষেত্রে শীর্ষ দুই প্রার্থী মুখোমুখি লড়াই করবেন। জরিপগুলো বলছে, দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হতে যাচ্ছে।