
বিশ্বসেরা ধনাঢ্য ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের নাম যেমন রকেট, বৈদ্যুতিক গাড়ি কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তির সঙ্গে জড়িয়ে আছে, তেমনই চর্চায় থাকে তার ব্যক্তিগত জীবন। কর্মজীবনের বিপুল সাফল্যের পাশাপাশি তার বৈচিত্র্যময় প্রেম, একাধিক বিয়ে এবং সন্তান জন্মদানের খবর বারবার সংবাদ শিরোনামে এসেছে।
হলিউড অভিনেত্রী, সঙ্গীতশিল্পী থেকে শুরু করে নিজ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী—বিভিন্ন সময়ে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের সূত্রে মাস্ক বর্তমানে অন্তত ১৪টি সন্তানের বাবা। সম্প্রতি নতুন সন্তানের আগমন এবং পুরনো সঙ্গিনীর সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের খবরে তার দীর্ঘ ডেটিং ইতিহাস আবারও আলোচনায় এসেছে।
সংবাদ পাঠকদের জন্য ইলন মাস্কের আলোচিত প্রেম ও সম্পর্কের ইতিহাস এক নজরে তুলে ধরা হলো:
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জেনিফার গউইনের প্রেমে পড়েন তরুণ ইলন মাস্ক। প্রায় এক বছর ধরে চলেছিল এই সম্পর্ক। তবে মূলত দূরত্বের কারণে (লং ডিসটেন্স রিলেশনশিপ) মাস্ক আগ্রহ হারিয়ে ফেললে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।
২০২২ সালে জেনিফার মাস্কের তরুণ বয়সের কিছু বিরল ছবি ও হস্তলিখিত প্রেমপত্র নিলামে তুলে আলোচনায় আসেন।
কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে জাস্টিন উইলসন নামের এক তরুণীর সঙ্গে পরিচিত হন মাস্ক। ২০০০ সালে তারা বিয়ে করেন।
২০০২ সালে তাদের প্রথম সন্তান 'নেভাদা' আকস্মিক শিশু মৃত্যু সিন্ড্রোমে (এসআইডিএস) মারা যায়। পরবর্তীতে কৃত্রিম প্রজনন (আইভিএফ) পদ্ধতিতে এই দম্পতির ঘরে জমজ ও ট্রিপলেটসহ আরও পাঁচটি সন্তান জন্ম নেয়। দাম্পত্য জীবনের অমিল ও মানসিকভাবে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় ২০০৮ সালে তাদের আট বছরের বৈবাহিক জীবনের সমাপ্তি ঘটে।
প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পরপরই ব্রিটিশ অভিনেত্রী তালুলাহ রাইলির সংস্পর্শে আসেন মাস্ক। ২০১০ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে মাত্র দুই বছর পরই ২০১২ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।
নাটকীয়ভাবে ২০১৩ সালে তারা আবারও বিয়ে করেন। কিন্তু এই দ্বিতীয় চেষ্টাও সফল হয়নি; ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের চূড়ান্ত আইনি বিচ্ছেদ হয়। তবে বর্তমানেও তারা পরস্পরের ভালো বন্ধু হিসেবে পরিচিত।
হলিউড অভিনেত্রী অ্যাম্বার হার্ডের সঙ্গে মাস্কের সম্পর্কের গুঞ্জন শুরু হয় ২০১৬ সালে। ২০১৭ সালে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেমের কথা স্বীকার করেন।
কাজের ব্যস্ততা ও ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে একই বছর তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয় এবং ২০১৮ সালের শুরুতে তাদের স্থায়ী বিচ্ছেদ ঘটে। সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটলেও তারা জানান, দুজনের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রয়েছে।
২০১৮ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি বুদ্ধিবৃত্তিক রসিকতাকে কেন্দ্র করে কানাডিয়ান সঙ্গীতশিল্পী গ্রাইমসের সঙ্গে মাস্কের যোগাযোগের সূচনা হয়।
এই দম্পতির ঘরে তিনটি সন্তান রয়েছে। সন্তানদের অদ্ভুত নাম নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বেশ আলোচনা হয়—'এক্স', 'এক্সা ডার্ক সাইডরেল' এবং 'টেকনো মেকানিকাস'। একাধিকবার সম্পর্ক ভাঙা-গড়ার পর বর্তমানে তারা আলাদা হলেও সন্তানদের সুবিধার্থে একই এলাকায় বসবাস করছেন।
মাস্কের ব্রেন-চিপ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'নিউরালিঙ্ক'-এর শীর্ষ নির্বাহী শিবন জিলিসের সঙ্গে তার সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আসে ২০২২ সালে। তাদের চার সন্তান রয়েছে।
শুরুতে একে শুধুমাত্র আইভিএফ পদ্ধতির অংশ বলা হলেও পরবর্তীতে জিলিস মাস্কের সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্কের কথা নিশ্চিত করেন। তবে সম্প্রতি ২০২৬ সালের অক্টোবরে জিলিস এক বার্তায় জানান যে, তাদের দীর্ঘদিনের এই রোমান্টিক সম্পর্কের অবসান ঘটেছে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন লেখিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচিত ব্যক্তিত্ব অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার জানান, তিনি ইলন মাস্কের ১৪তম সন্তানের মা হয়েছেন।
ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে তথ্যটি চেপে রাখতে চাইলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজরদারির কারণে তিনি তা জনসমক্ষে আনেন। অবশ্য এই সন্তানের বিষয়ে ইলন মাস্ক এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।