
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নিজের মৃত্যুর খবরে চরম বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বরেণ্য নাট্যজন ও একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা আবুল হায়াত। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত থেকে ছড়ানো ভুয়া খবরের জেরে দেশ-বিদেশের শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্বিগ্ন ফোনে বিব্রত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে। রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে নিজেই গণমাধ্যমের সাথে যোগাযোগ করে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে আবুল হায়াত বলেন, “আমি একদম ঠিক আছি। গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন খবর ছড়ানো হয়েছে। প্রথমে ভেবেছিলাম অহেতুক বিষয়, তাই পাত্তা দিইনি। কিন্তু আজ দেখছি এটা সীমা অতিক্রম করেছে। দেশ-বিদেশে থাকা আমার বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা একের পর এক ফোন করছেন। অনেকেই তো কেঁদেও ফেলেছেন। একজন জীবিত মানুষকে নিয়ে কীভাবে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন গুজব ছড়ানো যায়? এতে পরিবার ও প্রিয়জনরা ভীষণ কষ্টে পড়েন।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবুল হায়াতের মৃত্যুর গুজব ছড়ানোর ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন খবরের শিকার হয়েছেন তিনি ও তাঁর পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, প্রচার হওয়া খবরটির কোনো সত্যতা নেই এবং তিনি বাসায় পরিবারের সাথেই সুস্থ সময় কাটাচ্ছেন। ভুয়া খবরে কান না দিয়ে তথ্য যাচাইয়ের অনুরোধ করা হয়েছে।
১৯৬৯ সালে ‘ইডিপাস’ নাটকের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন আবুল হায়াত। দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে তিনি মঞ্চ, ছোট পর্দা এবং চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে কোটি দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নাট্যনির্মাণ, চিত্রনাট্য রচনা এবং উপন্যাস-আত্মজীবনী লেখাতেও তিনি অত্যন্ত সফল। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি অর্জন করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’।
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| নাম ও পরিচয় | আবুল হায়াত (অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক) |
| বর্তমান শারীরিক অবস্থা | সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন |
| গুজবের কারণ | সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া মৃত্যুর খবর ছড়ানো (৩-৪ অক্টোবর) |
| অভিনয় জীবনের সূচনা | ১৯৬৯ সালে BTV-এর ‘ইডিপাস’ নাটকের মাধ্যমে |
| প্রধান সম্মাননা | একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার |