
বাংলাদেশসহ নির্ধারিত দেশের নাগরিকদের জন্য ইতালিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৭ সালে বিভিন্ন খাতে মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ বিদেশি কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। এর মধ্যে কৃষি, পর্যটন, অমৌসুমি চাকরি ও পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা খাতে কর্মীর সুযোগ রয়েছে।
ইতালির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মোট কোটার মধ্যে ৭৬ হাজার ২০০ জনকে অমৌসুমি কাজে, ৮৯ হাজার জনকে কৃষি ও পর্যটন খাতের মৌসুমি কাজে এবং ৬৫০ জনকে স্বনিয়োজিত কাজে নেওয়া হবে। অমৌসুমি কোটার মধ্যে পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং খাতের জন্য রাখা হয়েছে ১৪ হাজার কর্মসংস্থান।
বাংলাদেশও এই কর্মী নিয়োগের জন্য যোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। সরকারি তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্যও কোটা রাখা হয়েছে। আফ্রিকার কয়েকটি দেশের নাগরিকরাও এ সুযোগের আওতায় থাকবেন।
২০২৭ সালের কর্মী কোটার জন্য আবেদনপত্র প্রাক-পূরণ বা ‘প্রিকম্পাইলেশন’ শুরু হবে ২৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৯টায়। এ প্রক্রিয়া চলবে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত। আবেদন করতে হবে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘সেরভিজি আলি’-এর মাধ্যমে।
তবে বিদেশি কর্মীরা সাধারণত নিজেরা সরাসরি এই কোটার আবেদন করেন না। ইতালিতে থাকা নিয়োগকর্তা বা অনুমোদিত প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট কর্মীর জন্য চাকরির অনুমোদন বা ‘নুলা ওস্তা’র আবেদন করেন। অনুমোদন পাওয়ার পর কর্মী নিজ দেশে ইতালীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
২০২৭ সালের চূড়ান্ত আবেদন বা ‘ক্লিক ডে’ খাতভেদে আলাদা দিনে নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি খাতের মৌসুমি কর্মীদের আবেদন শুরু হবে ১২ জানুয়ারি ২০২৭। পর্যটন খাতে ৯ ফেব্রুয়ারি, অমৌসুমি কাজের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা খাতের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি আবেদন নেওয়া হবে।
প্রতিটি ক্ষেত্রেই আবেদন শুরু হবে ইতালির স্থানীয় সময় সকাল ৯টায়। কোটা অবশিষ্ট থাকলে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত।
ইতালি ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ এবং ২০২৮ সালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জনের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, ইতালিতে কাজের সুযোগ পেতে আগ্রহীদের বৈধ নিয়োগকর্তা ও সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চাকরি বা ভিসার নামে কোনো ব্যক্তি বা দালালকে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়োগপত্র, নিয়োগকর্তার পরিচয় এবং ‘নুলা ওস্তা’র সত্যতা যাচাই করা জরুরি।