
দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং পরিবারের স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা। কষ্টার্জিত আয় দেশে পাঠিয়ে তারা দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছেন। তাই প্রবাসীদের ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ হিসেবে মর্যাদা দিয়ে তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। নানা প্রতিকূলতা, অনিশ্চয়তা ও কঠোর পরিশ্রমের মধ্যেও তারা নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিচ্ছেন। তাদের পাঠানো অর্থ পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখছে।
তবে এই অবদানের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ত্যাগ ও কঠিন বাস্তবতা। মরুভূমির তীব্র গরম, নির্মাণস্থলের কঠোর শ্রম, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং প্রিয়জনদের কাছ থেকে বছরের পর বছর দূরে থাকার মানসিক কষ্ট নিয়েই অনেক প্রবাসী জীবিকা নির্বাহ করছেন। পুরুষের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক নারী প্রবাসীও একইভাবে শ্রম দিয়ে পরিবার ও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদান শুধু অর্থ পাঠানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দেশের অর্থনীতির সংকটময় সময়ে তাদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা অর্থনীতিকে সচল রাখতে সহায়তা করে। ফলে তাদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
প্রবাসীদের নিরাপদ অভিবাসন, কর্মক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা, ন্যায্য মজুরি, দেশে ফেরার পর পুনর্বাসন এবং বিভিন্ন সরকারি সেবায় সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদেশে বিপদে পড়া প্রবাসীদের দ্রুত আইনি ও কূটনৈতিক সহায়তা দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশের অর্থনীতির নীরব শক্তি। তাদের ত্যাগ ও অবদানকে সম্মান জানিয়ে অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্র, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।