
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শারজাহতে স্বামী তাকে ঘুরতে বা অবসর কাটাতে বাইরে নিয়ে যান না—এমন অভিযোগে এক নারী বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছেন। তবে ওই নারী স্বীকার করেছেন, তাঁর স্বামী অত্যন্ত উদার, ধৈর্যশীল ও মার্জিত স্বভাবের।
গতকাল রোববার পাকিস্তানের সামা টিভিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই অদ্ভুত ঘটনাটির খবর উঠে আসে।
শারজাহ আদালতের পারিবারিক পরামর্শ বিভাগের পরিচালক ড. রাধিয়া হাসান আল রাইসি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে জানান, ওই নারী পারিবারিক আইনি পরামর্শ কেন্দ্র গিয়ে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগটি দায়ের করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে পরামর্শক দলকে জানান—তাঁর স্বামী দিনের বেশির ভাগ সময় ঘরে বসে থাকতেই ভালোবাসেন। তাঁকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যাওয়া কিংবা অবসর বিনোদনে স্বামীর কোনো আগ্রহ নেই।
তবে স্বামীর ভালো দিকগুলোর প্রশংসা করতেও কার্পণ্য করেননি তিনি। তিনি জানান, স্বামী পারিবারিক ও ব্যক্তিগত দিক থেকে বেশ উদার, ধৈর্যশীল ও নম্র স্বভাবের। কিন্তু কেবল ঘরে আটকে থাকার এই মানসিকতার কারণেই তিনি বিচ্ছেদের পথ বেছে নেওয়ার চিন্তা করছেন।
পারিবারিক পরামর্শ সেবার কর্মকর্তারা অবশ্য ওই নারীকে এখনই বিচ্ছেদের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিকল্প সমাধান হিসেবে তাঁকে আপাতত ভাই-বোন বা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, একটি দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক সমঝোতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। অবসর কাটানো বা ঘুরতে যাওয়ার পছন্দের ওপর ভিত্তি করে হঠাৎ বৈবাহিক সম্পর্কে টানাপোড়েন বা বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া অনুচিত।
ড. রাধিয়া আল রাইসি আরও মন্তব্য করেন, স্বামী ও স্ত্রীর জীবনযাপন কিংবা ছুটির দিন কাটানোর পছন্দে অমিল থাকা স্বাভাবিক এবং এটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তবে প্রতিটি অমিল বা মতপার্থক্য কখনোই একটি সংসারের ইতি টানার কারণ হওয়া উচিত নয়।