
যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো পদক্ষেপের বিপরীতে ইরান ‘উচ্ছ্বসিতও নয়, আবার ভীতও নয়’ উল্লেখ করে দেশটি জানিয়েছে, তারা প্রয়োজনে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনায় বসতেও পুরোপুরি প্রস্তুত।
রোববার (৪ অক্টোবর) ইরানি পার্লামেন্টে দেওয়া এক নীতি নির্ধারণী বক্তব্যে স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ওয়াশিংটনকে এই কড়া বার্তা দেন।
বাঘের গালিবাফ বলেন, “আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে সামরিক ময়দানে অবস্থান করছি এবং নতুন নতুন চমক নিয়ে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। তবে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষায় আমরা কূটনীতির পথও খোলা রেখেছি।”
তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়ে ইরান সাত দিনের একটি রোডম্যাপ প্রকাশের পর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কিছু প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পূর্বনির্ধারিত শর্তগুলো বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খোলা হবে না।
গালিবাফের ভাষ্যমতে, গত জুন মাসে হওয়া ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’র সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।
এর আগে, চলমান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু শর্ত হস্তান্তর করে তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বন্ধে ইরানের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সব ফ্রন্টে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, জব্দ করা ইরানি আর্থিক সম্পদ মুক্তকরণ এবং দেশটির সামরিক ও বাণিজ্যিক বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই আইআরজিসির (ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস) পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই অঞ্চলের কিছু সামরিক ঘাঁটি থেকে ইতিমধ্যে মার্কিন বাহিনী পিছু হটতে শুরু করেছে।
(তথ্যসূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড)