
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাবলম্বী করা ও সমাজের মূলধারায় যুক্ত করার দীর্ঘ পথচলার তিন দশক পূর্ণ করলো উন্নয়ন সংস্থা সেন্টার ফর ডিজএ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি)।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সাভারের ব্র্যাক সিডিএম প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠানটির ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এই আয়োজনে সিডিডির বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, দেশি-বিদেশি দাতা সংস্থা, সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করে সিডিডি’র নির্বাহী পরিচালক নাজমুল বারী বলেন, "প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নেতৃত্বের সুযোগ তৈরির জন্য সিডিডি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। শুরুর লক্ষ্য অর্জনে আমরা অনেক দূর এগোলেও তাদের পূর্ণ অধিকার আদায় ও নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লড়াই এখনো বাকি।"
তিনি ভবিষ্যতে এক মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সরকারসহ সকল পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির তিন দশকের পথচলার ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন সিডিডি’র প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক ও বর্তমান নির্বাহী উপদেষ্টা এএইচএম নোমান খান। পরে অতিথিরা সিডিডির ৩০ বছরের স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন। এর পরপরই পরিবেশন করা হয় গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী 'পটের গান'।
আলোচনা পর্বে সমাজভিত্তিক পুনর্বাসন (সিবিআর), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রভাব নিয়ে বক্তারা আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) মহাপরিচালক একেএম তারেক বলেন, "বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় সিডিডি সব সময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। দেশের দূরবর্তী যেসব অঞ্চলে শহুরে সুযোগ-সুবিধা পৌঁছানো কঠিন, সেখানে সিডিডি’র মতো সংস্থার সহায়তায় সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবা পৌঁছে দিচ্ছে।"
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর এই যৌথ অংশীদারিত্ব আরও জোরদার হবে।
এর আগে সকালে 'কমিউনিটি বেইজড রিহ্যাবিলিটেশন (সিবিআর) সামিট ২০২৬' আয়োজন করে সংস্থাটি। যেখানে অংশ নেন কয়েকশ প্রতিবন্ধী শিশু, তরুণ ও তাদের অভিভাবকরা। সেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নানাদিক নিয়ে আলোচনা হয়।
দিনব্যাপী এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ অন্যান্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে।