
আমেরিকা প্রবাসী রাষ্ট্রচিন্তক ও গবেষক স্পিন ডক্টর ক্লিনটন হাওলাদার পাভেল
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলেন আমাদের প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধারা। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, রোদ-বৃষ্টি-ঝড় উপেক্ষা করে প্রবাসের মাটিতে তারা যে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটেন, তার প্রতিটি কণা দেশের অর্থনীতির রক্তপ্রবাহকে সচল রাখে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা কেবল রেমিট্যান্স পাঠানোর যন্ত্র নন; তারা একেকজন খাঁটি রাষ্ট্রবাদী, যারা সর্বদা দেশ, মা, মাটি এবং মানুষের পক্ষে অবিচল অবস্থান নেন।
সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল প্রবাসীদের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে, আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে কিংবা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে বিভিন্ন সময় ‘দেশবিরোধী আহ্বান’ বা অপপ্রচার চালানো হয়ে থাকে। কিন্তু অত্যন্ত গর্বের বিষয় হলো, সাধারণ প্রবাসীরা কখনোই এই সব দেশবিরোধী ও নেতিবাচক আহ্বানে সাড়া দেন না। এর পেছনে রয়েছে তাদের গভীর দেশপ্রেম, মনস্তাত্ত্বিক দায়বদ্ধতা এবং সচেতন রাষ্ট্রচিন্তা।
প্রথমত, একজন প্রবাসী যখন দেশ ছাড়েন, তখন তিনি তার মা, মাটি আর চেনা মানুষকে পেছনে ফেলে যান। ভৌগোলিক দূরত্ব বাড়লেও দেশের প্রতি তাদের টান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। দেশের যেকোনো সংকট—তা প্রাকৃতিক দুর্যোগই হোক কিংবা অর্থনৈতিক মন্দা—প্রবাসীরাই সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তাদের উপার্জিত অর্থ দেশের ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে যখন বাংলাদেশে পৌঁছায়, তখন তা কেবল তাদের পরিবারের ভরণপোষণ করে না, বরং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করে। যে মানুষটি নিজের রক্ত পানি করা উপার্জনে দেশের মাটিকে সমৃদ্ধ করছেন, তিনি কখনো কোনো অবস্থাতেই দেশের ক্ষতি বা অমঙ্গল কামনা করতে পারেন না। ফলে, দেশবিরোধী যেকোনো এজেন্ডা বা বয়কট কালচারের ডাক প্রবাসীদের হৃদয়ে কোনো স্থান পায় না।
দ্বিতীয়ত, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রবাসীরা এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা বোঝেন যে, একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। রেমিট্যান্স বন্ধ করা বা দেশকে অর্থনৈতিকভাবে অবরুদ্ধ করার মতো আত্মঘাতী আহ্বান মূলত সাধারণ মানুষের পেটে লাথি মারার শামিল। প্রবাসীরা জানেন, দেশ ভালো থাকলে তাদের পরিবার ভালো থাকবে, দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে। কোনো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে দেশের ক্ষতি করার অপচেষ্টাকে তারা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। তারা রাজনীতি বোঝেন বা না বোঝেন, ‘রাষ্ট্রের কল্যাণ’ খুব ভালো বোঝেন।
স্পিন ডক্টর ক্লিনটন হাওলাদার পাভেল তার গভীর পর্যবেক্ষণ থেকে মনে করেন, প্রবাসীদের এই রাষ্ট্রবাদী চরিত্রকে আরও মূল্যায়ন করা উচিত। তারা বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের অঘোষিত রাষ্ট্রদূত। রাষ্ট্রচিন্তার দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রবাসীদের এই দেশপ্রেমকে সুসংহত করতে রাষ্ট্রকেও আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। প্রবাসে তাদের আইনি সুরক্ষা, বিমানবন্দরে সম্মানজনক আচরণ, ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণে আরও বেশি প্রণোদনা ও সহজ সুযোগ তৈরি করা জরুরি।
পরিশেষে বলা যায়, প্রবাসীরা দেশবিরোধী আহ্বানে সাড়া না দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, তাদের ধমনিতে বইছে খাঁটি বাংলাদেশি রক্ত। ক্ষমতার মোহ বা কোনো অপশক্তির প্ররোচনা তাদের দেশপ্রেমকে ডিক্টেট করতে পারে না। তারা অতীতেও দেশের পক্ষে ছিলেন, বর্তমানেও আছেন এবং ভবিষ্যতেও দেশ, মা, মাটি ও মানুষের কল্যাণে তাদের এই রাষ্ট্রবাদী অবস্থান বজায় রাখবেন। রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের এই অদম্য দেশপ্রেমই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার সবচেয়ে বড় শক্তি।