বিইউবিটি (BUBT)-তে যৌন নিপীড়নের বিচার চাওয়ায় শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)-তে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি তোলায় উল্টো এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে একাট্টা হয়ে রাজপথে নেমেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, বিইউবিটি-র ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক সাব্বিরের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ১৪ জন নারী শিক্ষার্থী যৌন নিপীড়নের মারাত্মক অভিযোগ আনেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, উপাচার্য (ভিসি) ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত না করে তার ঘনিষ্ঠ অভিযুক্ত শিক্ষককে বাঁচাতে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এই চরম অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উপাচার্যকে সরাসরি ইমেইলে প্রতিবাদ জানান ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শওকত আলী। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও শিক্ষার্থীদের পক্ষে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু অন্যায়ের বিচার করার বদলে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই ইমেইলকে "হুমকি" আখ্যা দিয়ে শওকত আলীকে অন্যায্যভাবে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যে শিক্ষক সবসময় শিক্ষার্থীদের অধিকারের পক্ষে লড়েছেন, আজ নিপীড়কদের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাঁকেই শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অন্যদিকে মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্তের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।
প্রশাসনের এই বিচারহীনতা ও অন্যায্য আদেশের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সুনির্দিষ্ট দুটি দাবি তুলেছেন:
১. ১৪ জন শিক্ষার্থীর আনা যৌন নিপীড়নের অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
২. সহযোগী অধ্যাপক শওকত আলীর ওপর আরোপিত সাসপেনশন আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
সত্য ও ন্যায়বিচারের এই লড়াইয়ে শিক্ষার্থীরা রাজপথে সরব রয়েছেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।