ইনদওরে মর্মান্তিক ঘটনা: শৈশবের যৌন নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে দাদুকে পিটিয়ে খুন নাতনির
মধ্যপ্রদেশের ইনদওর শহরে ঘটে গেল এক শিউরে ওঠার মতো ঘটনা। অভিযোগ, শৈশবের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ এবং মানসিক যন্ত্রণার চরম প্রতিশোধ নিতে নিজের ৭৫ বছর বয়সি দাদুকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে খুন করেছে ২০ বছরের এক তরুণী। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে, ছোটবেলায় ওই বৃদ্ধের কাছেই দিনের পর দিন যৌন হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল অভিযুক্ত তরুণীকে।
রবিবার ভোররাতের ভয়াবহ ঘটনা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে রবিবার ভোরে।
রাত আনুমানিক ৩টে নাগাদ একটি স্কুটিতে চেপে ওই তরুণী তার দাদুর বাড়িতে পৌঁছয়।
সঙ্গে ছিল একটি ক্রিকেট ব্যাট।
ঠাকুমা দরজা খুলে দেওয়ার পর সে সরাসরি দাদুর ঘরে ঢুকে যায়। বৃদ্ধ তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন।
অভিযোগ, সেই ঘুমন্ত অবস্থাতেই দাদুর মাথায় ৭ থেকে ৮ বার সজোরে ব্যাট দিয়ে আঘাত করে তরুণী।
আচমকা এই হামলায় ঠাকুমা চিৎকার জুড়ে দিলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় বৃদ্ধকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ওই তরুণীকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
হত্যার নেপথ্যে শৈশবের গভীর ক্ষত
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার অশোক সিংহ জাডোন জানিয়েছেন, অতীতে তরুণীর পরিবার—বাবা-মা, দাদু ও ঠাকুমা একই বাড়িতে বসবাস করত। তরুণীর অভিযোগ, সেই সময় তার দাদু তাকে অশালীনভাবে স্পর্শ করত। কিশোরী বয়সে সে একাধিকবার তার বাবা-মাকে এই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানালেও, তখন দাদুর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে অবশ্য বাবা-মা মেয়েকে নিয়ে আলাদা বাড়িতে চলে যান।
কী কারণে আচমকা এই বিস্ফোরণ?
পুলিশের দাবি, ঘটনার আগের রাতে দেরি করে বাড়ি ফেরা নিয়ে তরুণীর সঙ্গে তার বাবা-মায়ের তীব্র বচসা হয়। বাবা-মা মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আর এই ‘নিরাপত্তা’-র কথা উঠতেই তরুণীর মনে পড়ে যায় তার শৈশবের সেই ভয়ংকর দিনগুলির কথা। সে প্রশ্ন তোলে, ছোটবেলায় নিজের বাড়িতেই যখন সে সুরক্ষিত ছিল না, তখন কেন বাবা-মা তার নিরাপত্তা নিয়ে এত উদ্বিগ্ন হননি? এই পুরনো ক্ষোভ থেকেই সে চরম পরিণতি ঘটিয়ে ফেলে।
বর্তমানে পুলিশ এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে। তবে এই ঘটনাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, শৈশবের চাপা পড়া মানসিক ট্রমা এবং বিচার না পাওয়ার হতাশা কতটা ভয়ংকর রূপ নিতে পারে।