
ঢাকার আদালত কক্ষ থেকে হাতকড়া খুলে দ্বিতীয়বারের মতো পালিয়ে গেছেন হত্যা মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম। এর আগে পুলিশ সদস্যকে কামড়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালানোর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) তাঁকে কারাগারে থেকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়েছিল। বিচারিক কার্যক্রম চলাকালীন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চতুরতার সাথে হাতকড়া খুলে আদালতকক্ষ থেকেই ফের চম্পট দেন এই আসামি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কোতোয়ালি থানায় দায়েরকৃত আগের পালানোর মামলায় শরিফুলকে আজ কাশিমপুর/কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে শুনানি চলাকালীন কনস্টেবল আবদুল আলিম আসামির নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। তবে সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম কৌশলে হাতকড়া খুলে বিচার কক্ষ থেকেই হাওয়া হয়ে যান শরিফুল।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পলাতক আসামি শরিফুলের বাড়ি দিনাজপুরে এবং তাঁর বাবার নাম শফিক আহমেদ। ২০১৮ সালে রাজধানীর খিলগাঁও থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর টানা ৬ বছর ধরে তিনি কারাগারে ছিলেন। গত ২০২৫ সালের ১৯ জুন খিলগাঁও থানার মামলায় আদালতে হাজিরার সময় তিনি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্যকে কামড় দিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকেই পালিয়ে যান। পরবর্তীতে কোতোয়ালি থানায় মামলা দিয়ে তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আদালতের মতো সুরক্ষিত স্থান থেকে একই আসামির দু-দুবার পালানোর ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। প্রসিকিউশন বিভাগের প্রধান ডিসি মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল জানান, আদালত প্রাঙ্গণ ও ভেতরের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। নিরাপত্তায় নিয়োজিতদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আসামির বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়ের এবং তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|
| আসামির নাম ও পরিচয় | শরিফুল ইসলাম (পিতা: শফিক আহমেদ, বাড়ি: দিনাজপুর) |
| মূল অপরাধ/মামলা | ২০১৮ সালের খিলগাঁও থানার হত্যা মামলা (৬ বছর কারাবাস) |
| প্রথমবার পলায়নের ঘটনা | ১৯ জুন, ২০২৫ (পুলিশকে কামড়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে) |
| দ্বিতীয়বার পলায়নের ঘটনা | ৬ অক্টোবর, ২০২৬ (হাতকড়া খুলে আদালতকক্ষ থেকে) |