
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দ্রুত সেনা মোতায়েন করতে সম্মত হয়েছে এই তিন দেশ। সোমবার (৫ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক জরুরি বৈঠক শেষে এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান জানান, ইরান সমর্থিত হুতিদের আক্রমণ এবং তাদের মদদদাতাদের জবাব দিতে এ জোটের আওতায় ‘সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ সক্রিয় করার বিষয়ে তিন দেশ একমত হয়েছে। চুক্তির মূল নীতি হলো—যেকোনো এক সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে, যা উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট বা ন্যাটোর সনদের সাথে হুবহু মিল রয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, চুক্তি অনুযায়ী তাদের নির্ধারিত সামরিক বলয় ও সক্ষমতা দ্রুত সৌদি আরবে মোতায়েন করা হবে।
মক্কা চুক্তি সক্রিয় করার এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনী হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের ১০০টি যুদ্ধবিমান এই সামরিক অপারেশনে প্রত্যক্ষ সহায়তা দিচ্ছে। ইয়েমেনি বাহিনী ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে যে তারা লোহিত সাগরের কৌশলগত মোখা বন্দরনগরী পুনর্দখল করেছে এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ 'বাব আল-মানদেব' প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়েছে।
২০২৬ সালের গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির শরিক তিন দেশের সম্মিলিত সামরিক শক্তি প্রকাণ্ড। এই জোটের সক্রিয় সেনাসংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। এছাড়া তাদের কাছে রয়েছে ৩,৪০০টি সামরিক বিমান, ৬,০০০ ট্যাংক এবং ৩৪০টিরও বেশি শক্তিশালী নৌযানের বিশাল বহর। গালফ ইন্টারন্যাশনাল ফোরামের ফেলো আবদুল আজিজ আলঘাশিয়ান উল্লেখ করেছেন, এই চুক্তি সক্রিয় করার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|
| জোটের নাম ও সদস্যগণ | মক্কা প্রতিরক্ষা জোট (সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক) |
| চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ | ৭ আগস্ট, ২০২৬ (সক্রিয়করণ: ৫ অক্টোবর, ২০২৬) |
| সম্মিলিত সামরিক সক্ষমতা | ১৪ লাখ সেনা, ৩,৪০০ যুদ্ধবিমান, ৬,০০০ ট্যাংক, ৩৪০+ নৌজাহাজ |
| প্রধান সিদ্ধান্ত | সৌদি আরবে দ্রুত সেনা মোতায়েন ও হুতিদের বিরুদ্ধে সমন্বিত সামরিক পদক্ষেপ |