
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক জান্তার পর এবার সশস্ত্র বৌদ্ধ বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন, পৈতৃক ভিটেমাটি দখল ও অন্যায়ভাবে তা উচ্ছেদের গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে[cite: 1]। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য গার্ডিয়ান'-এর এক বিশেষ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে উত্তর রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে আরাকান আর্মি ধারাবাহিকভাবে একের পর এক রোহিঙ্গা গ্রাম ধ্বংস করেছে এবং সেখানে তাদের পৈতৃক জমি দখল করে সামরিক ব্যারাক, বন্দিশিবির ও নতুন বসতি গড়ে তুলেছে[cite: 1]।
স্যাটেলাইট চিত্র, জাতিসংঘের গবেষণা এবং ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে করা অনুসন্ধানে দেখা যায়, বুথিডং টাউনশিপের হ্নগেট থায় এলাকার যেসব জমিতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রোহিঙ্গারা ধান চাষ করতেন, ২০২৬ সালের চিত্রে সেখানে ১২০টিরও বেশি ধূসর রঙের বন্দিশিবির ও সামরিক স্থাপনা দৃশ্যমান হয়েছে[cite: 1]। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকে এসব শিবিরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে, যেখানে তাদের স্বাধীন চলাচলের কোনো অনুমতি নেই[cite: 1]। এছাড়া ওয়েত নিয়ো তাউং এলাকার ফলের বাগান ও বসতবাড়ি ধ্বংস করে 'এপি ব্যাটালিয়ন' নামের সামরিক ঘাঁটি ও জোরপূর্বক শ্রমের ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে[cite: 1]।
বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জানান, তাঁদের নিজস্ব ঘরবাড়ি ভেঙে সেই উপকরণ দিয়েই বিদ্রোহীদের ক্যাম্প তৈরি করতে বাধ্য করা হয়েছে[cite: 1]। রাস্তা পরিষ্কার করা, পরিখা খোঁড়া থেকে শুরু করে অবর্ণনীয় কায়িক শ্রমে বাধ্য করা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের[cite: 1]। এমনকি তরুণ-তরুণীদের ধরে নিয়ে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালিয়ে জোর করে সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে[cite: 1]। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক টম ড্যানেনবাম মন্তব্য করেন, এটি একটি সুসংগঠিত ‘জনসংখ্যা স্থানান্তর’ সংক্রান্ত যুদ্ধাপরাধ হতে পারে[cite: 1]।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক উপস্থিতি স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার ছক কষা হচ্ছে[cite: 1]। ২০১৭ সালের সেনা অভিযানের পর অবশিষ্ট ৬ লাখ রোহিঙ্গাদের অন্তত এক-চতুর্থাংশ (১ লাখ ৫৫ হাজারেরও বেশি) গত দুই বছরে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে, যার ফলে বাংলাদেশে মোট রোহিঙ্গা সংখ্যা ১২ লাখ অতিক্রম করেছে[cite: 1]। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) চলতি মাসেই ২০১৭ সালের গণহত্যা সংক্রান্ত রায় প্রদান করতে পারে, যেখানে উচ্ছেদ ও বসতি ধ্বংসকে গণহত্যার উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল[cite: 1]।
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|
| প্রধান অভিযুক্ত পক্ষ | আরাকান আর্মি (AA) - রাখাইনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী[cite: 1] |
| আক্রান্ত এলাকা | উত্তর রাখাইনের বুথিডং, হ্নগেট থায় ও ওয়েত নিয়ো তাউং এলাকা[cite: 1] |
| দখলকৃত জমি ও গ্রাম | কমপক্ষে ২৩টি রোহিঙ্গা গ্রামের ৮০০ হেক্টরের বেশি কৃষিজমি ও বসতি[cite: 1] |
| নতুন করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ | ২০২৪ সাল থেকে ১,৫৫,০০০-এর বেশি (মোট শরণার্থী ১২ লাখ+)[cite: 1] |