জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে সরকারকে ভোট দেয়, তা পূরণে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ড. মঈন খান বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা আমাদের দায়িত্ব। স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিনিধি ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত এর দায় সরকারের ওপরই বর্তায়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে মানুষের সুবিধা-অসুবিধা দেখাই সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেও জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ পাঁচ বছর। এরপর আবার জনগণের মুখোমুখি হতে হয় এবং কাজের প্রমাণ দিয়ে পুনর্নির্বাচিত হতে হয়। তাই জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জন্ম নিবন্ধন পেতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনেক মানুষ একটি সনদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে দিনের পর দিন ঘোরেন। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে হবে। শুধু প্রযুক্তি চালু করলেই হবে না, প্রযুক্তির পেছনে থাকা মানুষকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। একটি জন্মসনদ পেতে নাগরিককে যেন বারবার অফিসে যেতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ডাটাবেজের তথ্যের অসঙ্গতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার সঙ্গে নিবন্ধন তথ্যভান্ডারের বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। এ অসঙ্গতি দূর করে নিবন্ধন ব্যবস্থাকে নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা মানুষের সেবা, প্রয়োজন পূরণ ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য—জনগণের সেবা বাধাগ্রস্ত করার জন্য নয়।