
নানা আয়োজনে আজ বৃহস্পতিবার সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস। ২০১১ সাল থেকে দেশে প্রতিবছর এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘ই-সিগারেট/ভ্যাপ ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করুন, শিশু-তরুণদের রক্ষা করুন’। তামাক ও নিকোটিনের ভয়াল ছোবল থেকে নতুন প্রজন্মকে বাঁচাতে এবং সংশোধিত আইনে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের দাবিতে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করছে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের (বাটা) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দিবসটি উপলক্ষে নানা আয়োজনের কথা জানানো হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় বাটা’র উদ্যোগে রাজধানীর ধানমন্ডির আবাহনী খেলার মাঠের সামনে একটি বিশেষ অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করা দেশের শীর্ষস্থানীয় ৩৫টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা সম্মিলিতভাবে অংশ নেন। এ ছাড়া তামাকবিরোধী অন্যান্য সংগঠনগুলোর উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা, সেমিনার, মানববন্ধন ও সচেতনতামূলক র্যালির আয়োজন করা হয়েছে।
তামাক ব্যবহারের ভয়াবহ পরিণতির চিত্র তুলে ধরে সংগঠনটি জানায়, ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের চিকিৎসায় দেশের হাসপাতালগুলোতে ক্রমেই রোগীর চাপ বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের মতে, ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ যে, বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ক্যানসার রোগীর কেমোথেরাপির সিরিয়াল ২০২৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়ে গেছে।
নতুন প্রজন্মকে নিকোটিনের ভয়াল আসক্তি থেকে সুরক্ষিত রাখা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। উল্লেখ্য, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ ই-সিগারেট, ভ্যাপ ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করার কথা বলা হলেও, পরবর্তীতে আইন সংশোধনের সময় একটি চক্র সুকৌশলে এই বিধানটি বাতিল করে দেয়। আজকের তামাকমুক্ত দিবসে এই ক্ষতিকারক পণ্যগুলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে আইনি বিধানটি পুনরায় চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন তামাকবিরোধী কর্মীরা।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| আলোচিত বিষয় | জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস উদযাপন |
| এবারের প্রতিপাদ্য | ‘ই-সিগারেট/ভ্যাপ ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করুন, শিশু-তরুণদের রক্ষা করুন’ |
| প্রধান আয়োজক | বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) এবং সহযোগী ৩৫টি সংগঠন |
| উদ্বেগের কারণ | ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কেমোথেরাপির দীর্ঘ সিরিয়াল (২০২৮ পর্যন্ত) |
| মূল দাবি | আইন সংশোধন করে ই-সিগারেট, ভ্যাপ ও নিকোটিন পণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা |