
পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন, অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ এবং বিমানবন্দরে নিজের পদবী গোপন করে ভুয়া 'ডিআইজি' পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, টুটুল চক্রবর্তী গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সরকারি খাতায় 'পলাতক' অবস্থায় রয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর দুই দিনের ছুটি এবং ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর হয়েছিল টুটুল চক্রবর্তীর। তবে তিনি ছুটি শুরু হওয়ার আগের দিন অর্থাৎ ১৩ নভেম্বর প্রয়োজনীয় প্রস্থান প্রতিবেদন দাখিল না করেই নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। ঐ দিন রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে তিনি নিজের আসল পরিচয় গোপন করে নিজেকে 'ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ' হিসেবে পরিচয় দেন এবং ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করে বিমানের ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন। এর আগেও তিনি একাধিকবার একইভাবে ভুয়া পরিচয় দিয়ে ভিআইপি সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন, যা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরে আসে।
অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ ও মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের ঘটনাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী মারাত্মক 'অসদাচরণ' হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি ও পরবর্তীতে তদন্তে দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর ১৬ জুন তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কোনটিরই লিখিত জবাব দেননি কিংবা সময় বাড়ানোর আবেদন করেননি।
বিভাগীয় মামলার তদন্ত শেষে টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে সরকার তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) বরখাস্তের পক্ষে আনুষ্ঠানিক মতামত প্রদান করে। এরপর গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত বরখাস্তের প্রস্তাব অনুমোদন করলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁকে গুরুদণ্ড প্রদান করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। বরখাস্তের পূর্বে সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায় তিনি রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন।
| বিষয় / খাত | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| অভিযুক্তের নাম ও পদবি | টুটুল চক্রবর্তী (অতিরিক্ত ডিআইজি, বাংলাদেশ পুলিশ) |
| কর্মসংস্থান ও প্রশাসনিক স্থিতি | রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত; ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে 'পলাতক' |
| প্রধান অভিযোগাবলী | কর্মস্থল ত্যাগ, আসল পরিচয় গোপন ও ভিআইপি লাউঞ্জ অপব্যবহার |
| শাস্তির ধরন ও অনুমোদন | গুরুদণ্ড (চাকরি থেকে বরখাস্ত); রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে জারি |