
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপসাগরীয় উপকূলে তাণ্ডব চালাতে ঘণ্টার ১৬৫ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসছে বছরের প্রথম অতি শক্তিশালী ক্যাটাগরি-২ হারিকেন ‘ইসাইয়াস’। প্রলয়ংকারী এই ঘূর্ণিঝড় ও ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কায় উপকূলীয় ফ্লোরিডা, আলাবামা এবং মিসিসিপি রাজ্যে চরম সতর্কতা ও জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) গভীর রাতে এটি স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে বলে নিশ্চিত করেছে ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ন্যাশনাল গার্ডের প্রায় ৫ হাজার সদস্যকে।
ঝড়ের কারণে সৃষ্ট ১.৫ থেকে ২ মিটার উচ্চতার বিপজ্জনক জলোচ্ছ্বাস ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে ব্যাপক প্লাবনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আলাবামার গভর্নর কে আইভি ডফিন দ্বীপ ও গালফ শোরস অঞ্চল থেকে পর্যটক এবং বাসিন্দাদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ফ্লোরিডার চারটির বেশি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ক্লাস বাতিল করা হয়েছে এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করেছে পেনসাকোলা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস উদ্ধার তৎপরতার জন্য হাজার হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে প্রস্তুত রেখেছেন।
আটলান্টিকের আটলান্টিক হারিকেন মৌসুম শুরুর দীর্ঘ চার মাস পর প্রস্তুত হলো মৌসুমের প্রথম এই হারিকেন, যা ১৯০৫ সালের ৮ অক্টোবরের ঐতিহাসিক রেকর্ডের খুব কাছাকাছি। আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী ‘এল নিনো’ প্রবাহ বিদ্যমান থাকায় আটলান্টিকে ঝড় সৃষ্টির সাধারণ অনুকূল পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মেক্সিকো উপসাগরে হঠাৎ হারিকেনের শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইসাইয়াস আঘাত হানার পূর্ব মুহূর্তেই মেক্সিকো উপসাগরের অফশোর এলাকার প্রায় ৬৩ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস উৎপাদন কার্যক্রম নিরাপত্তা স্বার্থে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মেরিন মিনারেলস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, এর ফলে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১৩ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। তেলের স্থাপনাগুলো থেকে বহু কর্মীকে ইতোমধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও তথ্যসমূহ |
|---|---|
| ঝড়ের ধরন ও গতিবেগ | ক্যাটাগরি-২ হারিকেন (ঘণ্টায় ১৬৫ কিমি গতিতে অগ্রসরমান) |
| ঝুঁকিপূর্ণ স্টেটসমূহ | ফ্লোরিডা, আলাবামা, মিসিসিপি, জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনা |
| প্রশাসনিক উদ্যোগ | জরুরি অবস্থা ঘোষণা, ৫,০০০ ন্যাশনাল গার্ড প্রস্তুত ও বিমানবন্দর স্থগিত |
| জ্বালানি প্রভাব | উপসাগরীয় এলাকার ৬৩% তেল উৎপাদন বন্ধ (দৈনিক ১৩ লাখ ব্যারেল) |