
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশন (বিটিএফ) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দাবা ক্লাব (ডিইউসিসি)। তরুণদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং মননশীলতা ও ইতিবাচক চিন্তার বিকাশ ঘটানো ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ‘বিটিএফ-ডিইউসিসি ফিদে র্যাপিড রেটেড চেস চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’। এতে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
প্রতিযোগিতাটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্কুল-কলেজ—দুটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি বিভাগে পয়েন্ট ও চূড়ান্ত অবস্থানের ভিত্তিতে সেরা ১০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগে ৬ দশমিক ৫ পয়েন্ট পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হন সুব্রত বিশ্বাস। ছয় পয়েন্ট নিয়ে প্রথম রানারআপ হন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। ৫ দশমিক ৫ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় রানারআপ হন অমিত বিক্রম রায়।
এ বিভাগে চতুর্থ থেকে দশম স্থান অর্জন করেন যথাক্রমে এ এস এম সয়েব রেজা, তানভীর আলম, তাহমিদুল হক, মাইনুল আলম, রাকিবুল হাসান ইমন, মো. রাইসান ইসলাম রাতুল ও আবরার রহমান।
স্কুল-কলেজ বিভাগে ৬ দশমিক ৫ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন রায়ান রশিদ মুগ্ধ। ছয় পয়েন্ট পেয়ে প্রথম রানারআপ হন মো. আজমাঈন পারভেজ সায়র। ৫ দশমিক ৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় রানারআপ হন সাফায়াত কিবরিয়া আজান।
এ বিভাগে চতুর্থ থেকে দশম স্থান অর্জন করেন সিয়াম চৌধুরী, শাদাত কিবরিয়া আয়ান, আজরাফ আনান, আওসাফ চৌধুরী, মুহতাদি তাজওয়ার নাশীদ, রাইয়ান সায়েদী ও মোহাম্মদ মাহীন রহমান।
দুই বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীকে যথাক্রমে আট হাজার, ছয় হাজার ও পাঁচ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান অর্জনকারীরা পান তিন হাজার টাকা করে। ষষ্ঠ থেকে দশম স্থান অধিকারীদের দেওয়া হয় পদক।
বিকেলে পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়শ্রী জামান।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি ও ডিআইজি ড. শোয়েব রিয়াজ আলম, ফেডারেশনের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও ফিদে মাস্টার মেহেদী হাসান পরাগ, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা রহমান, ইনার হুইল ক্লাব অব লবেলিয়ার প্রেসিডেন্ট সাজেদা আক্তার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দাবা ক্লাবের সভাপতি ফারিহা সুমনা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সাজিদুল ইসলাম।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা রহমান বলেন, মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে দাবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত দাবা চর্চা মনোযোগ, চিন্তাশক্তি, সমস্যা সমাধান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক।
সাজেদা আক্তার বলেন, মোবাইল ফোনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি এবং সামাজিক ও প্রযুক্তিগত নানা চ্যালেঞ্জের কারণে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। তাদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে ইতিবাচক, সৃজনশীল ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে জয়শ্রী জামান বলেন, মানসিক সুস্থতার জন্য খেলাধুলা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক চর্চা গুরুত্বপূর্ণ। ইতিবাচক ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা গেলে বিষণ্নতা কমাতে ভূমিকা রাখা সম্ভব। এ চিন্তা থেকেই দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে গিয়ে খেলাধুলার সঙ্গে আত্মহত্যা প্রতিরোধের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে মানুষের জীবনযাপনে ইতিবাচক ও সৃজনশীল কার্যক্রমের চর্চা বাড়ানো জরুরি। দাবার মতো বুদ্ধিবৃত্তিক খেলার বিকাশেও সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জয়শ্রী জামান বলেন, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো দাবার চালের মতো ভেবেচিন্তে নেওয়া প্রয়োজন। আত্মহত্যা ও বিষণ্নতা মোকাবিলায় মানসিক শক্তি ধরে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
মানসিক কষ্ট একা চেপে না রেখে বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, মনের কষ্ট অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিলে অনেকটা হালকা হওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তোমার গোপন কথাটি, সখী, রেখো না মনে’ পঙ্ক্তির কথাও স্মরণ করেন তিনি।
আয়োজকদের মতে, তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।