
ভারতের ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও ভোট চুরির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত তরুণদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ক্ষমতাসীন বিজেপির আদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, মোদি ও আরএসএসের সঙ্গে তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিকভাবে লড়াই করছেন। তাদের চরিত্র ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট ধারণা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় মোদি ও আরএসএসের প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে ‘কাপুরুষতা’র কথা উল্লেখ করেন কংগ্রেসের এই নেতা।
রাহুল গান্ধীর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বর্তমানে চাপের মুখে রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকায় অনিয়ম এবং ভোট চুরির ঘটনায় বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার বিষয়ে বিরোধীদের হাতে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে।
আন্দোলন দমনে পুলিশ ব্যবহার কিংবা নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে তরুণদের প্রতিবাদ থামানো যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। দেশের সংবিধান ও তরুণদের অধিকার রক্ষায় আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।
এদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বানে দিল্লির জন্তর মন্তরে তরুণদের একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেয়। অনুমতি না থাকার কথা জানিয়ে সেখান থেকে তিন হাজারের বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং ভোটাধিকার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া