0
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে রাশিয়ান ডিজেল আমদানির এক নজিরবিহীন চুক্তি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র ক্ষোভ ও কড়া নিন্দা জানিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এটিকে "পুতিনকে দেওয়া উপহার" এবং "যুদ্ধ থামানোর বদলে দীর্ঘায়িত করার ক্ষেত্রে এক বিপজ্জনক বিনিয়োগ" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ট্রাম্পের আকস্মিক এই পদক্ষেপে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে এক বড় ধরনের কূটনৈতিক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, পুতিনের সঙ্গে তাঁর সফল ফোনালাপের পর রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লাখ টন ডিজেল মার্কিন ও বিশ্ববাজারে সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে। ক্রমান্বয়ে আরও ৩ মিলিয়ন টন ডিজেল পাঠাবে মস্কো। ইরানে সামরিক সংকটের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম গড়ে ৬.২৮ ডলারে পৌঁছায়। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন পাম্পে জ্বালানির দাম কমাতে এটি ট্রাম্পের এক চরম মরিয়া পদক্ষেপ বলে বিশ্লেষণ করছেন অর্থনৈতিক বাজার বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্পের এমন একক সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, "রাশিয়াকে তার পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া মানে সরাসরি তাদের যুদ্ধযন্ত্রকে অর্থায়ন করা। রাশিয়া এই ডিজেলের বিনিময়ে বিশ্বকে আরও ভয়ংকর সন্ত্রাস ও বিশ্বাসঘাতকতা ফিরিয়ে দেবে"। তিনি ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, শক্তিশালী অংশীদারদের কাছ থেকে ইউক্রেন সর্বদা নীতিগত ও দৃঢ় সমর্থন আশা করে, শত্রুর সামনে আত্মসমর্পণমূলক বা দুর্বল পদক্ষেপ নয়।
মার্কিন সিদ্ধান্তের বিপরীতে ইউকে (যুক্তরাজ্য) সরকার নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। ব্রিটিশ সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, রাশিয়া ও পুতিনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অবস্থান আগের মতোই কঠোর থাকবে এবং রাশিয়ার ওপর এখন পর্যন্ত আরোপিত সর্বকালের কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখবে লন্ডন। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (IEA) মতে, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার নিজস্ব শোধনাগারগুলোর উৎপাদনে প্রায় ৩০ শতাংশ ধস নেমেছে, ফলে রাশিয়া প্রকৃতপক্ষে এতটা ডিজেল রফতানি করতে সক্ষম কি না তা নিয়েও সংশয় রয়ে গেছে।
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও তথ্যসমূহ |
|---|---|
| চুক্তির মূল পক্ষ | মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন |
| প্রস্তাবিত ডিজেল সরবরাহ | তাত্ক্ষণিক ৩ লাখ টন (প্রায় ২.২৫ মিলিয়ন ব্যারেল) + পর্যায়ক্রমে আরও ৩৫ লাখ টন |
| মার্কিন ট্রেজারির আইনি পদক্ষেপ | ৭ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত সাময়িকভাবে রুশ ডিজেল আমদানির ওপর লাইসেন্স ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল |
| জেলেনস্কি ও ইউক্রেনের প্রতিক্রিয়া | পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রে বিনিয়োগ এবং অশুভ দুর্বলতার প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত |