
ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব কারচুপির অভিযোগে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন। ১০০ কোটি ভোটারের ভোটার তালিকা যাচাইকরণের (বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি (১৩০ মিলিয়ন) নাম বাদ পড়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনারের অভ্যন্তরীণ আপত্তির বিষয় প্রকাশ্যে আসার পর থেকে তরুণদের নেতৃত্বাধীন আলোচিত 'ককোরোচ জনতা পার্টি' (CJP) এবং কংগ্রেস সমর্থিত প্রধান বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া' (INDIA) দিল্লির রাজপথে তীব্র গণবিক্ষোভ শুরু করেছে।
সম্প্রতি প্রভাবশালী ভারতীয় দৈনিক 'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এ প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনার গত ১০ মাসে ডিজিটালাইজেশন পদ্ধতি ও বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত অন্তত ১৪টি সিদ্ধান্তে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরপরই বিরোধী দলগুলো জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ভোটার তালিকা পুনর্গঠন বা ভোটাধিকার ছিনতাইয়ের (ভোট চুরি) অভিযোগ ত্বরান্বিত করে। এর জবাবে নির্বাচন কমিশন অবশ্য দাবি করেছে, যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় ভিন্নমত একটি স্বাভাবিক বিষয় এবং সমস্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছে।
১৯৮৮ ব্যাচের আইএএস কর্মকর্তা জ্ঞানেশ কুমার ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। মাত্র এক মাস আগেই ছবিযুক্ত আইডি কার্ডের মাধ্যমে ভোটার শনাক্ত নিশ্চিত করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক প্রশংসিত হন তিনি। তবে ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপির বিতর্ক দানা বাঁধার পর উত্তরপ্রদেশে তাঁর পৈতৃক ভিটার নিকটবর্তী দেয়ালে তাঁকে 'দেশদ্রোহী' বা 'বিশ্বাসঘাতক' হিসেবে উল্লেখ করে গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তাঁকে অপসারণের লক্ষ্যে সংসদে প্রস্তাব আনলেও তা খারিজ হয়ে যায়।
শিক্ষা খাতের দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে সফলতার পর এবার ভোটার তালিকা রক্ষার দাবিতে রাজপথে নেমেছে ভারতের আলোচিত যুব আন্দোলন 'ককোরোচ জনতা পার্টি' (CJP)। সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ, বাদ পড়া ১৩ কোটি ভোটারের নাম পুনর্বহাল ও ব্যালট পেপারে ফিরে যাওয়ার দাবিতে শনিবার নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর ও নির্বাচন কমিশন ভবন ঘেরাও কর্মসূচির আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা, মেট্রো স্টেশন বন্ধ ও শত শত কর্মীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও তথ্যসমূহ |
|---|---|
| বিতর্কের প্রধান কারণ | ভোটার তালিকা সংশোধনে (SIR) ১৩ কোটিরও বেশি ভোটারের নাম কর্তন ও অপর দুই কমিশনারের ১৪টি আপত্তি |
| অভিযোগকারী মূল পক্ষসমূহ | ককোরোচ জনতা পার্টি (CJP), রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন 'ইন্ডিয়া' (INDIA) জোট ও সুশীল সমাজ |
| কমিশন ও সরকারের বক্তব্য | কারচুপি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ভিত্তিহীন; তথ্য হালনাগাদ স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া |
| আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি | সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, SIR প্রক্রিয়া বাতিল ও ব্যালটে নির্বাচন আয়োজন |