
দেখতে একেবারেই নিরেট ও মসৃণ মনে হলেও একটি সাধারণ মুরগির ডিমের খোসায় থাকে প্রায় ৭ হাজার থেকে ১৭ হাজার অতি সূক্ষ্ম ছিদ্র। খালি চোখে অদৃশ্য এসব মাইক্রোস্কোপিক ছিদ্র মূলত ডিমের ভেতরের প্রাণ বা ভ্রূণের শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার প্রাকৃতিক পথ হিসেবে কাজ করে। প্রকৃতির এই অপূর্ব কৌশল একদিকে যেমন ডিমের ভেতরের ভ্রূণকে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং অতিরিক্ত আর্দ্রতা বাইরে বের করে দেয়, তেমনি ভেতরের অংশকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকেও সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখে।
ডিমের শক্ত খোসাটি কোনো সাধারণ আস্তরণ নয়, বরং এটি ভ্রূণের জীবন ধারণের জন্য তৈরি একটি নিখুঁত প্রকৌশল। হাজার হাজার অণুবীক্ষণিক ছিদ্রের মাধ্যমে বাইরের বাতাস থেকে অক্সিজেন ডিমের ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভেতরে জমে থাকা ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প বাইরে বের হয়ে যায়। এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ডিমের ভেতরের ছোট প্রাণটি ডিম ফুটে বের হওয়ার আগ পর্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করে।
হাজার হাজার ছিদ্র থাকার পরও কীভাবে ব্যাকটেরিয়া ডিমের ভেতরে ঢুকতে পারে না—তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের কৌতুহল দীর্ঘদিনের। গবেষণায় দেখা গেছে, ডিমের খোসার ঠিক ওপরে 'কিউটিকল' (Cuticle) নামের একটি অতি সূক্ষ্ম প্রোটিন স্তর থাকে যা একমুখী ফিল্টারের মতো কাজ করে। এটি বায়ুকে ভেতরে আসতে দিলেও ক্ষতিকর জীবাণুকে আটকে দেয়। তা সত্ত্বেও কোনো ব্যাকটেরিয়া যদি ভেতরে প্রবেশ করে, তবে ডিমের সাদা অংশে (অ্যালবুমেন) থাকা 'লাইসোজাইম' (Lysozyme) নামক শক্তিশালী এনজাইম সেই জীবাণুর কোষপ্রাচীর ভেঙে তা ধ্বংস করে ফেলে।
| উপাদান / মাধ্যম | কার্যক্রম ও প্রাকৃতিক ভূমিকা |
|---|---|
| মাইক্রোস্কোপিক ছিদ্র | ৭,০০০-১৭,০০০টি ছিদ্রের সাহায্যে গ্যাstat ও আর্দ্রতা বিনিময় (ভেন্টিলেশন) |
| কিউটিকল (Cuticle) | বাইরের আস্তরণ যা বাতাস চলাচলে সহায়তা করে কিন্তু ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে |