
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে তেহরানের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুই নেতার মধ্যে টেলিফোনে কথা বলার সময় ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। শনিবার (১০ অক্টোবর) ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
রাশিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সমন্বয় করে সংঘাতের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে তেহরানের মতামত ট্রাম্পকে জানিয়েছেন পুতিন।
তবে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের পক্ষ থেকে কী কী শর্ত দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ক্রেমলিন। একইভাবে পুতিনের দেওয়া তথ্যের বিষয়ে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়াও প্রকাশ করা হয়নি।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও গ্রীষ্মকাল থেকে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার মধ্যস্থতার উদ্যোগ নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। চলতি সপ্তাহে তুর্কমেনিস্তানে একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন পুতিন। ওই বৈঠকে যুদ্ধের অবসানে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মধ্যস্থতা করতে রাশিয়ার প্রস্তুতির কথা জানান তিনি।
পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ ইরান, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক যোগাযোগের নতুন একটি উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত, আলোচনার পরবর্তী ধাপ কিংবা সংঘাত বন্ধে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, তেহরানের প্রস্তাব নিয়ে ওয়াশিংটন কী অবস্থান নেয় এবং রাশিয়ার মধ্যস্থতা যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় বাস্তব কোনো অগ্রগতি আনতে পারে কি না। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।