
আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে টানা তিন বলে তিন উইকেট শিকার করে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখালেন বাংলাদেশের ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি পেস বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার এই অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। তার এই দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যের সুবাদে টেস্টের দ্বিতীয় দিনে চালকের আসনে বসেছে সফরকারী বাংলাদেশ।
আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসের ৮২তম ওভারে বল করতে এসে এই জাদুকরী মুহূর্তের জন্ম দেন হাসান মাহমুদ। ওভারের প্রথম শিকার ছিলেন ১ রান করা ইসমত আলম, যাকে সরাসরি বোল্ড করেন তিনি। পরের বলেই জিয়া-উর-রহমানকে শূন্য রানে এলবিডব্লিউর (LBW) ফাঁদে ফেলেন। এরপর হ্যাটট্রিক বলে দারুণ এক ডেলিভারিতে কাইস আহমাদকে পরাস্ত করেন হাসান, বল তার ব্যাটের কানা ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের বিশ্বস্ত গ্লাভসে জমা হতেই ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিকের আনন্দে মাতে পুরো দল।
হাসান মাহমুদের আগে মাত্র দুজন বাংলাদেশি বোলার টেস্টে হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেয়েছিলেন এবং দুজনেই ছিলেন স্পিনার। ২০০৩ সালে পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে লেগ-স্পিনার অলক কাপালি দেশের হয়ে প্রথম এই কীর্তি গড়েন। এরপর ২০১৩ সালে ঢাকায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অফ-স্পিনার সোহাগ গাজী। দীর্ঘ ১৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের তৃতীয় বোলার এবং প্রথম পেসার হিসেবে এই অভিজাত তালিকায় যুক্ত হলেন হাসান মাহমুদ।
ম্যাচের শুরুতে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের ৮৩, সাদমান ইসলামের ৬৭ ও লিটন দাসের ৫৩ রানের ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে আব্দুল মালিকের ৬২ এবং রহমত শাহের ৮৮ রানে দারুণ প্রতিরোধ গড়েছিল আফগানিস্তান। তবে ইবাদত হোসেনের ৩ উইকেট এবং শেষবেলায় হাসান মাহমুদের এই বিধ্বংসী হ্যাটট্রিক স্পেলে ৮ উইকেটে ২২০ রানে পরিণত হয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে স্বাগতিকরা।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| টুর্নামেন্ট ও ভেন্যু | একমাত্র টেস্ট, আবুধাবি |
| হ্যাটট্রিকের শিকার | ইসমত আলম (বোল্ড), জিয়া-উর-রহমান (এলবিডব্লিউ) ও কাইস আহমাদ (কট বিহাইন্ড) |
| টেস্টে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক | অলক কাপালি (২০০৩), সোহাগ গাজী (২০১৩) ও হাসান মাহমুদ (২০২৬) |
| বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস | ৩৪৬ রান (তানজিদ ৮৩, সাদমান ৬৭) |
| আফগানিস্তানের বর্তমান স্কোর | ২২০/৮ (রহমত শাহ ৮৮, আব্দুল মালিক ৬২) |