
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ভোট কারচুপির অভিযোগের বিষয়ে ‘রাজসাক্ষী’ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ২০০ কর্মকর্তা তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত বক্তব্যের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী এসব কথা বলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁর বক্তব্য ও সংবাদ সম্মেলন নিয়মিত অনুসরণ করছেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে তিনি রাজসাক্ষী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি। তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণও প্রকাশ্যে আসেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধীদের মধ্যে চলমান বিতর্কের মধ্যেই রাহুল গান্ধীর এ বক্তব্য সামনে এল।
কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রাজনৈতিক স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সামনে রেখে অন্যরা নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে রাহুল গান্ধীর এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ২০০ কর্মকর্তা তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন বলে দাবি করেছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকর্তার মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা, গোয়েন্দা বিভাগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
রাহুলের দাবি, এসব যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি সরকারের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য পান। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিচয়, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের ধরন কিংবা দাবির পক্ষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি।
ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলে আসছে। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর জবাব দিতে হবে।
রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, বিভিন্ন বাধা ও চাপের মুখেও বিরোধীদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তাঁর বক্তব্যের পর বিরোধী জোটের নেতাদের বৈঠক এবং পরবর্তী কর্মসূচি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ভোট কারচুপির অভিযোগ ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক দাবির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে বিতর্কটির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি আরও স্পষ্ট হতে পারে।